
যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সৎ বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৫ মে (মঙ্গলবার) যশোরের অভয়নগর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোছা. নাছিমা বেগম (৪৯)। তিনি অভয়নগর থানার মশরহাটী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআই যশোর কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলো সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রূপদিয়া গ্রামের মৃত খন্দকার আ. গণি মাস্টারের প্রথম স্ত্রী মোছা. নূরজাহান (৬৯) এবং তার ৯ সন্তান— আমজাদ হোসেন বাবলু, নাদের হোসেন লাবলু, মোহাম্মদ আলী খন্দকার, আজাদ হোসেন, ইজাজ হোসেন, লিলি খাতুন, লাভলী খাতুন, লাকী খাতুন ও লাবনী খাতুন। বাদী নাছিমা বেগম মৃত খন্দকার আ. গণি মাস্টারের দ্বিতীয় স্ত্রী মুসলিমা বেগমের একমাত্র সন্তান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৯ জানুয়ারি খন্দকার আ. গণি মাস্টার মৃত্যুবরণ করেন। এরপর উত্তরাধিকার সূত্রে কোতয়ালী থানার রূপদিয়া ও নরেন্দ্রপুর মৌজায় পিতার সম্পত্তির (খতিয়ান ৫৮, ৩১৯, ৩২৩) বৈধ অংশীদার হন নাছিমা বেগম। কিন্তু তার সৎ মা এবং সৎ ভাই-বোনেরা তাকে ওই সম্পত্তি থেকে বেদখল করে রাখে। সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য নাছিমার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
আরজিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নাছিমা বেগম তার পৈত্রিক বাড়িতে গেলে আসামিরা তাকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক তিনটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ সময় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও আসামিরা তাতে সাড়া দেয়নি।
সর্বশেষ গত ১ মে সকাল ১০টার দিকে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে অভয়নগরে নাছিমার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় সাক্ষীদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। আসামিরা সে সময়ও জানিয়ে দেয়, পৈত্রিক সম্পত্তির কোনো অংশ তাকে দেওয়া হবে না এবং জমিতে পা রাখলে তাকে খুন করা হবে। ভুক্তভোগী নাছিমা বেগম জানান, ১ মে’র ঘটনার পর তিনি অভয়নগর থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
মামলায় বাদী তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পৈত্রিক বাসগৃহে বসবাসের অধিকার এবং মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।