
শাহাবুদ্দিন আহামেদ, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী জিসান আহম্মেদ রাব্বী অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ-এর শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি এবং বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা রাব্বী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর এশিয়ান টিভিতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার দায়িত্ব নিতে বেনাপোলে এসে তিনি বাংলানিউজ ২৪ ডটকম-এর প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সম্প্রতি আমড়াখালী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পান্তাপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম রাজু, মান্দারতলা গ্রামের আব্দুল্লাহ, কাগমারি আমড়াখালীর হাসান, মোস্তাক, ঘরজামাই হাসানসহ ৮-১০ জন যুবক রাব্বীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হামলাকারীরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় ৬৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রাব্বীর প্রতিষ্ঠানের স্টাফ সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ১৪/২৬, তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০২৬)। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মিলন হোসেনের ওপর।
তবে অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং তদন্ত কর্মকর্তা বাদীসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ কাজিম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান জানান, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মিলন হোসেন বলেন, “আসামিরা আদালত থেকে জামিনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।”
এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।