শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ডিবির অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক নজরুলবর্ষ ও ৩৬ জুলাই উদযাপন বিএসপির ২৬১তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে ‘আলোছায়া’, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা যশোরের যৌনপল্লীতে নারীকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি চাচাদের জালে ৭ গোল, দুই রাজহাঁস নিয়ে ফিরলেন ভাইপোরা নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাত আরোজ আলী শেখ গ্রেপ্তার বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে সাগরিকা পরিবহনের বাস খাদে, আহত ২৫ যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হাজারো নেতাকর্মীর ঢলে মুখর ভাঙ্গা, জুলাই শহিদদের স্মরণে বিএনপির বিশাল র‍্যালি ও জনসমাবেশ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চন্ডিপুর বিষ্ণুপদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কয়েকশ কেজি সরকারি বই খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই অনিয়মের ঘটনাটি ঘটে। সরকারি বই হকারের কাছে বিক্রির সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন সংশ্লিষ্টরা। ​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের নির্দেশে এবং তার ব্যক্তিগত ফোন কলের সূত্র ধরে একজন হকার ভ্যান নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। এরপর ৫ থেকে ৬টি বড় বড় বস্তায় করে প্রায় ৩০০-৪০০ কেজি সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির উদ্দেশ্যে ওজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বইগুলো জব্দ করে স্কুলের গোডাউনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

​স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অধ্যক্ষের সরাসরি নির্দেশেই বইগুলো হকারের কাছে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। অনেক শিক্ষকই এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তারা বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য চরম লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। ​অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোঃ খলিলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “আমি শুধু পুরাতন খাতা বিক্রির অনুমতি দিয়েছিলাম। সরকারি বই বিক্রির বিষয়ে আমি জানতাম না।” তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাতিলকৃত বই বা খাতা বিক্রির ক্ষেত্রে যে রেজুলেশন বা শিক্ষা অফিসের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়, তার কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।​উল্লেখ্য, সরকারি বিধি অনুযায়ী বাতিলকৃত বই উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কমিটির উপস্থিতিতে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। চন্ডিপুর বিষ্ণুপদ স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সরাসরি বই বিক্রির এই প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছে সচেতন মহল।​বিষয়টি সম্পর্কে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ নোমান হোসেন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন:​”সরকারি সম্পদ এভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সাথে সাথেই আমরা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তে যদি অধ্যক্ষ বা অন্য কারো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”​বর্তমানে জব্দকৃত বইগুলো স্কুলের হেফাজতে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews