
বিশেষ প্রতিনিধি:কলাকান্ডে বহিষ্কৃত বহুল আলোচিত যশোর জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেন স্বপদে বহালের জন্য বিভিন্নমহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। আট মাস আগে গণশুনানিতে দুদকের কমিশনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীর স্বীকারোক্তিতে দুর্নীতিবাজ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের সত্যতা মেলায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ দেন। এবারই তিনি নতুন করে দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত হননি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আসলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং নড়াইল থেকে বদলী করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বহু দেনদরবার করে সে যাত্রায় তিনি রক্ষা পান। ৮ মাস যেতে না যেতেই তিনি নানা ফন্দি ফিকির করছেন স্বপদে বহালের জন্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে দুর্নীতির এ মহানায়ক রাষ্ট্রের সম্পদ অবৈধ অর্থ লেনদেন এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে বেনামে রয়েছে তৈরি করেছেন অঢেল সম্পদ কিন্তু তিনি ইসলামী লেবাস ধারণ করে পাঞ্জাবি, পায়জামা ও দাঁড়ি রেখে একজন সূফীর রূপ ধারণ করে সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন ধুরন্ধর এ দুর্নীতির মহানায়ক। তিনি উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে দিতেও সিদ্ধহস্ত।
জানা যায়, তিনি চৌগাছা উপজেলা সদরে হলদি বাজারে জেলা পরিষদের জায়গা কোন রকম সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ছোট ছেলেকে অলিখিত অগ্রিম ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে মাসিক ভাড়ায় একটি গার্মেন্টসের দোকান করার অনুমতি দেয়। এছাড়া ঐ জায়গায় আরো ৫/৭টি ছোট বড় দোকান ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে মাসিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে মৌখিক বরাদ্দ দেন। চৌগাছা হাইস্কুল রোডেও ৫ আগস্টের পর প্রায় ৪০টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি দোকান প্রতি তাকে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ঐ দোকান বরাদ্দ দেন। নাম গোপন রাখার শর্তে দোকান বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই জানান, সুচতুর দাঁড়িওয়ালা আলমগীর আল্লাহর ওলী সেজে আমাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। এ প্রতিবেদক তাদের কাছে জানতে চান কেন আপনারা তাকে ঘুষ দিয়েছেন। প্রতি উত্তরে তারা বলেন, বৈধভাবে আবেদন করেও মাসের পর মাস ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে তার সাথে চুক্তি মোতাবেক ঘুষের টাকা দিয়েই দোকান বরাদ্দ পেয়েছি। হলদি বাজারের জমি বরাদ্দের জন্য তার কাছে গেলে অবাইদুর নামক এক ব্যক্তির কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন ঘুষখোর আলমগীর।
কিছুদিন বহিষ্কৃত থাকার পর আবার তিনি নড়াচড়া দিয়ে উঠেছেন। ঘুষখোর দুর্নীতির মহানায়ক আলমগীর বলেন, আমাকে আমার জায়গায় যেতে হলে বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীনকে তার ঐ পথ থেকে সরাতে হবে। তাকে সরাতে না পারলে আমি আমার জায়গায় বসতে পারবো না। জেলা পরিষদ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরাতে বড় মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গোপনে রেকর্ড করা এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ১০ লাখ লাগলে লাগবে, আমি আমি শাহীন স্যারকে সরাতে পারলে আমার অব্যাহতি উঠে যাবে এবং ঐ চেয়ারে বসে এক মাসের মধ্যে ঐ ১০ লাখ টাকা উঠিয়ে ফেলবো।
চলবে—