বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুয়েটে ড. এম. এ. রশীদ হলের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শার্শায় নিখোঁজ যুবক ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দূর্বাডাঙ্গায় পুলিশের কঠোর বার্তা গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি খুলনাবাসী একটি বিপদের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন — মজ্ঞু বাঁকড়া বাজারে যানজট, সড়কের অর্ধেক দখলে থাকে যানবাহন কেশবপুরের পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল পুলিশের হাতে আটক। আবারও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দেশসেরা যবিপ্রবি বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ ও কারাদণ্ড: নগরকান্দায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসনঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এবং পাল্টা চাঁদাবাজির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ফজলুল কবির গামা: ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এবং পাল্টা চাঁদাবাজির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের চারজনকে আটক করেছে।

গত ৫ মে খালিশপুর বাজারের নিকটবর্তী একটি বাড়িতে এক নারীকে হেনস্তা ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সাজ্জাদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভিকটিমের দাবি অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে একা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয় দুই যুবক এগিয়ে এসে সাজ্জাদুলকে আটক করেন। পরে ভিকটিমের স্বামী ও ওই দুই যুবক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার শর্তে অভিযুক্তের কাছে অর্থ দাবি করেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বিষয়টি গোপন রাখার বিনিময়ে সাজ্জাদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারী ও তার সহযোগীদের এক লাখ টাকা প্রদান করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে তাকে জিম্মি করে আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং জোরপূর্বক দুই লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক লিখে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ চার দিন নানা নাটকীয়তা ও গোপন সালিশের পর, গত ৯ মে শনিবার ভিকটিম নারী মহেশপুর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই পুলিশ সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
এর পরপরই অভিযুক্তের স্ত্রী তাহমিনা শম্পা পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ফাঁসানো হয়েছে এবং মারপিটের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ও চেক হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই এই “মধুচক্রের” ফাঁদ পাতা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিবার অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমান ও মো. ফিরোজ নামে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, “ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি যেমন গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে, তেমনি একজনকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের বিষয়টিও প্রাথমিক তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, উভয় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন নারী অবমাননার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা, অন্যদিকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মত অপরাধের সত্যতা মেলায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews