বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর মণিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনে অসংখ্য ফাটল,ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা! নিখোঁজের তিন দিন পর কপোতাক্ষ নদে মিলল ভ্যানচালক একলাসের মরদেহ যশোরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিপিএম-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ওসির খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকা– কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু কেশবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

​মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ‘কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর’ সড়কের চলমান সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রাক্কলন (শিডিউল) তোয়াক্কা না করে ইটভাটার ফেলে দেওয়া ‘ভাটা কুড়ানো ডাস্ট’ ও অত্যন্ত নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২৬ শত ২০ মিটার কার্পেটিং কাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কাজের নিম্নমানের কারণে এর গুণগত স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঠিকাদার মোঃ শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়েই দ্রুত সটকে পড়েন।
​অন্যদিকে, সড়ক সংস্কারের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহিন রেজা কোনো সুনির্দিষ্ট সদুত্তর না দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনাদের সাথে দেখা করা বা কথা বলা সম্ভব নয়। যা জানার উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী সরকারের কাছ থেকে জেনে নিন।”

​কাজের সাইটে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার সময় এলজিইডির উপজেলা কার্য সহকারী মোঃ আসাদুজ্জামানকে সরেজমিনে দেখা যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের গাড়ি থামতে দেখে তিনিও নিজের মোটরসাইকেল রেখে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তাকে ফেরত এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
​আসাদুজ্জামান বলেন, “রাস্তার কাজে ভরপুর দুর্নীতি হচ্ছে, এটা সত্য। কিন্তু এখানে আমার কী করার আছে? আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত জানাচ্ছি, কিন্তু তারা কাজ বন্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী সরকারসহ অনেকেই জড়িত। তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।”

​অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য নিতে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী সরকারকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলছি”—এই বলে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি বর্তমানে ঢাকাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অবস্থান করছেন।
​একইভাবে বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শামিম হোসাইনকে ফোন করা হলে তিনি “বিষয়টি দেখছি” বলে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। পরদিন তার কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনিও ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
​জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত সরকারি প্রাকল্পিক কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের মূল দায়িত্ব, সেখানে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও এড়িয়ে চলার মানসিকতাকে দুর্নীতিকে পরোক্ষ প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

​সড়ক সংস্কারে চরম অনিয়মের খবর পেয়ে সরজমিনে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঝিনাইদহ-৩ আসনের অ্যাম্বাসেডর মোঃ হৃদয় আহমেদ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চালানো কাজ বন্ধ করে দেন।
​সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে হৃদয় আহমেদ বলেন, “সাফদারপুর রাস্তায় যে ধরনের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখে মনে হয় এগুলো অন্তত দুইশত বছরের পুরোনো ও পরিত্যক্ত ইট! সরকারি বিপুল বাজেটের এই কাজে প্রকাশ্যে এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সত্য ঘটনা তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—জনগণের রক্ত-পানি করা টাকার এই হরিলুট বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কাজের এক ইঞ্চিও এগোতে দেওয়া হবে না।”

​স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে নির্মিত সড়কের স্থায়ী স্থায়িত্ব ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
​এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ঝিনাইদহের বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews