
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৬: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সচিবালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নতুন ভাড়ার ঘোষণা দেন।
দূরপাল্লা/আন্তঃজেলা ২.১২ টাকা/কিমি ২.২৩ টাকা/কিমি ১১ পয়সা।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগর ২.৪২ টাকা/কিমি ২.৫৩ টাকা/কিমি ১১ পয়সা।মহানগর মিনিবাস ২.৪২ টাকা/কিমি ২.৫৩ টাকা/কিমি ১১ পয়সা।ঢাকা-চট্টগ্রাম ২৬৫ কিমি রুটে আগে ভাড়া ছিল প্রায় ৫৬২ টাকা, এখন দিতে হবে প্রায় ৫৯১ টাকা। অর্থাৎ এক যাত্রায় বাড়তি ২৯ টাকা গুনতে হবে।
নতুন ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত বাসের জন্য প্রযোজ্য। সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া বাড়বে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীতে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা বহাল আছে।
সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। পরিবহন মালিকদের দাবি, শুধু তেল নয়, ডলারের দাম বাড়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের খরচও বেড়েছে।
প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম ১ লিটার বাড়লে ভাড়া ১ পয়সা বাড়ে। সে হিসাবে ১৫ টাকা বাড়ায় ১৫ পয়সা বাড়ার কথা। কিন্তু সরকার ‘জনস্বার্থ বিবেচনায়’ ১১ পয়সা বাড়িয়েছে।
‘পকেট কাটা গেল’ – বলছেন যাত্রীরা ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, “বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু বাস ভাড়া, বাজার সবই বাড়ে। মাসে আমার যাতায়াত খরচ ৬০০-৭০০ টাকা বেড়ে যাবে। এটা তো পকেট কাটা।”
গার্মেন্টস কর্মী রোকেয়া বেগম জানান, “সিএনজি বাস তো কম। বেশিরভাগ ডিজেল বাস। গাবতলী থেকে মতিঝিল যেতে এখনই ৪০ টাকা লাগে। আরও বাড়লে চলবো কীভাবে?”
শিক্ষার্থী তরিকুল আহমেদ বলেন, “হাফ ভাড়া নিয়ে এমনিতেই ঝামেলা করে। এখন নতুন ভাড়ার অজুহাতে আরও ঝামেলা করবে।”
এদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতি কিমিতে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও মালিকপক্ষ ২২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাবি করেছিল।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে বাস ভাড়াও আবার কমানো হবে। বিআরটিএকে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রতিটি বাসে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।