
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৬: দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে ৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ১৭৮ জন। এ সময়ে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,২৭৮ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্ত ২২,৪০৯ জন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১,৭৫১ জন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত এ বিভাগে সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ৯,৭৮০ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ২,০৪৬ জন। ১২ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই ৭০৩ জন শিশু আক্রান্ত হয় এবং প্রাণ হারায় ৯ জন।
গত এক সপ্তাহের মৃত্যুর ধারা ১৭ এপ্রিল২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু,১৬ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু। ১৫ মার্চ–১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট মৃত্যু ২০৬ জন।১৩ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৭২৯ শিশু।১২ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৪২৮ জন।
হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকার ঘাটতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলার টিকার মজুত শূন্য। কয়েক বছর ধরে দেশে হাম ও রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইনও হয়নি। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিশুরা নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় প্রকোপ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করুন। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন এবং অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬