রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কেশবপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ভাঙ্গায় আলোচনা সভা, ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান মণিরামপুরে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ যশোরস্থ সাতক্ষীরা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য মোজাফফার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত শ্যামনগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত যশোর হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ছয় বছরের পথচলায় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত রাতদিন নিউজ, বর্ণাঢ্য আয়োজনে অর্ধযুগ পূর্তি উৎসব জনগণকে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না: প্রতিমন্ত্রী অমিত

কালীগঞ্জের কাশিপুর বেদে পল্লি: সংঘাত নয়, শান্তি ও ঐক্যবদ্ধ বসবাসের আবেদন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

ফাওজুর রহমান সাবিত:ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর বেদে পল্লি। প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার অধিবাসীর এই পল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেদে পল্লির বাসিন্দারা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মো: মনিরুল ইসলাম এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মো: রাসেল হোসেন।​পূর্ব বিরোধের জেরে তৈরি হওয়া এই বিভাজনের কারণে পল্লির সাধারণ অধিবাসীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

​
​শুক্রবার বেলা ১২ টায় কাশিপুর বেদে পল্লি সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মো: মনিরুল ইসলামের অনুসারী বাসিন্দারা পল্লিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে রাসেল হোসেন সমর্থিত গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য বর্তমানে পল্লি থেকে দূরে বা স্থানচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। দুই পক্ষের ক্ষমতার টানাটানি ও সামাজিক নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে পল্লির সার্বিক নিরাপত্তাও মাঝেমধ্যেই হুমকিতে পড়ছে।
​
​সংঘাত এড়াতে এবং পল্লির সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে দুই পক্ষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
​মো: মনিরুল ইসলাম (একপক্ষের মাতব্বর):
​”আমরা কোনো ধরনের গ্রুপিং বা বিভাজন চাই না। সব অশুভ প্রতিযোগিতা ভুলে সবাই একসাথে মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। অতীতে না বুঝে ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই বেদে পল্লিতে আর কোনো হানাহানি, মারামারি বা বিশৃঙ্খলা আমরা দেখতে চাই না।”

পল্লির শতাধিক নারী-পুরুষ একত্র হয়ে এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সচেতন সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন:
​”আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। আমাদের মূল পরিচয় আমরা সবাই বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ। নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে আমাদের সমাজে কষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই প্রশাসনের সহায়তায় ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে রাসেলের অনুসারীসহ সবাইকে নিয়ে আমরা যেন মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারি।”

বর্তমানে বেদে পল্লির বাইরে অবস্থানরত রাসেল গ্রুপের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, সামাজিক সমঝোতা ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হলে তারাও পল্লি ফিরে এসে সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করতে আগ্রহী।

​কালীগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কাশিপুর বেদে পল্লির এই সমস্যা কেবল তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এতে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুসংহতির প্রশ্ন জড়িত। অনতিবিলম্বে স্থানীয় নেতৃত্ব, সমাজসেবক ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের বিভাজনের স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব।
​একটি সুস্থ ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে উভয় পক্ষের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং মিলেমিশে থাকার ইচ্ছাই পারে কাশিপুর বেদে পল্লিতে আবার শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews