সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আজ প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিসিক-জেলা প্রশাসনের মেলায় সেরা ‘সানন্দা বুটিক শুক্রবারে পাঞ্জাবি গায়ে “গুচ্ছগ্রামে” মণিরামপুর নির্বাহী কর্মকর্তা! শ্যামনগরে বসত ভিটা অবৈধ দখলের পাঁয়তারা যবিপ্রবির প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে আট বছরের জেরিন জন সাধারণের খাবার পানির পুকুর দখলকারী হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন যশোরে মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ভাঙ্গায় রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬০, আহত ১০ পুলিশ সদস্য ওজোপাডিকো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ দফা দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভাঙ্গায় রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬০, আহত ১০ পুলিশ সদস্য

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রিপন ভাঙ্গা ফরিদপুর প্রতিনিধি:ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন পুলিশ সদস্যও।

রোববার ২৮ জুন সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল, ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট ও চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাম কাজী ও শিরু মোল্লা পক্ষের সঙ্গে কবির তালুকদার ও দেলোয়ার তালুকদার পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রোববার সকালে সেই উত্তেজনা মানিকদহ ইউনিয়ন ও হামিরদী ইউনিয়ন ও১০ গ্রামবাসী চরমে পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষে রক্তখনী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভাঙ্গা থানার সার্কেল অফিসার, ওসি, এসআই ও কনস্টেবলসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই চারদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশুরা নিরাপত্তার কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারেনি। পুরো এলাকা এক পর্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর মহেশ্বরদী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,
“সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মহেশ্বরদী যেন পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আহত হন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যরাও। চার ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews