
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ নিত্য দিনের তীব্র যানজট হতে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে মণিরামপুর বাসী সহ যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়কে যাতায়াত করা ভুক্তভোগী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। গত ১০ দিনে বদলে গেছে মণিরামপুর বাজারের দৃশ্যপট,নেই কোন বিশৃঙ্খলা, মহাসড়ক ও সরকারি জায়গা গুলো হয়েছে দখলমুক্ত,ছোট-বড় যানবাহন,উচ্ছেদকৃত স্টান্ড ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে নির্দিষ্ট স্থান। দেশের বৃহত্তর এ উপজেলা শহরের ব্যাস্ততায় মানুষের যানজটের ভোগাক্তি লাঘবে দুই শিপ্টে ১৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে রাত-দিন। সুশৃঙ্খল মণিরামপুর শহরকে ফিরে পেয়ে সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের এ কার্যকরী সিদ্ধান্তকে। তবে যানজট নিরসনে অস্থায়ী এ ব্যবস্থার সাথে সাধারন মানুষ ও সচেতন মহল একদফা দাবী তুলেছেন যে, পার্শ্ববর্তী উপজেলা শহর গুলোতে সড়ক প্রশস্থকরনে বড় বড় ভবন ভেংগে রাস্তা সংস্কারের ন্যায় যানজটের স্থায়ী সমাধানকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ আইন মোতাবেক আমাদের মণিরামপুর শহরের রাস্তা প্রসস্থকরন চাই।
তথ্যসূত্র বলছে, চলতি মাসের ১০ই সেপ্টঃ হতে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের নেতৃত্বে বাজারের পাবলিক লাইব্রেরীর সামনের মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান,রাজগঞ্জ মোড়,থানা মোড়,হাকোবা মোড়,গো-হাট মোড়,থানার বেষ্টনী সংলগ্ন মুরগীহাটা ও মণিরামপুর বাজারের প্রধান সড়কের সমস্থ দখলদার এবং স্টান্ড উচ্ছেদ অভিযানের পর হতে যানবাহন-পথচারী-ব্যবসা-বানিজ্য সবকিছু নিজস্ব গতিতে চলছে এই টানা ১০ দিন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে যানজটের বিষয়টি নজরে এনে পরিছন্নতা ফেরাতে যে সমস্ত ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও স্টান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে তার মাধ্য রাজগঞ্জ মোড়ের মোটরসাইকেলের অবৈধ স্টান্ড ১শ মিঃ দূরে ব্রিজ সংলগ্ন টিন শেট করা হয়েছে। থানা বেষ্টনীর মুরগীহাটা মণিরামপুর খুচরা মাছ বাজারের ২য় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে ও পাবলিক লাইব্রেরীর সামনের মার্কেটের স্থলে একটি নতুন মার্কেট নির্মান পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সেখানখার ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রধান সড়কের অবৈধ দখলকার ও যানবাহনের যত্রতত্র স্টান্ড,পার্কিংয়ে নজর রেখে যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে নিরলস ভাবে দায়িত্বপালন করছে আনসার-ভিডিপির মণিরামপুর উপজেলা শাখার ১৬ জন সদস্য।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের অভিব্যাক্তি প্রকাশের চলতি এ প্রতিবেদনে শতকরা ৮০% ব্যাক্তিবর্গ মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক জনগণের ভোগান্তি লাঘবে যানজট নিরসনে গৃহীত ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে তাৎক্ষণিক অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক,সামাজিক ও সেচ্চাসেবী সংগঠন,শিক্ষক,ব্যবসায়ী,সচেতন মহল ও স্থানীয় গণমাধ্যমের একটি বৃহৎ অংশ দাবী করেছেন যে, সাধারন মানুষ ও মণিরামপুর শহরের চীরচেনা যানজটে ভুক্তভোগীদের কথা বিগত সরকারের আমলে প্রধান সড়কে “রাস্তার সংস্কার হলেও,চওড়া হয়নি”। যানজটের ভোগান্তি হতে সাময়িক এ মুক্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে দূরপাল্লার যানবাহন ও এ্যাম্বুলেন্স চালকেরা সন্তুষ্টি নিয়ে জানান যে, এখন আমাদের আর কথা শুনতে হয়না কম্পানির কাছে,দেখতে হয়না রোগীর স্বজনদের আহাজারি! তবে রাস্তার দু’পার্শে যদি অংশ বাড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে আরো ভালো হয়। ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটের লিটন ট্রাভেলসের চালক ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, আমরা ঢাকা-নাভারন-সাতক্ষীরা ও ঢাকা-মণিরামপুর-সাতক্ষীরা দুইটা রুটে চলাচল করি। যে দিন শুনি মণিরামপুর ভায়া হয়ে সাতক্ষীরা যেতে হবে সে দিন ঐ চিপা গলির সমান রাস্তার চিন্তা করতে করতে ঢাকা হতে মণিরামপুর আসতে হয়। এমন শত শত চালক,হাজার হাজার ভুক্তভোগী,লক্ষ লক্ষ মানুষ মণিরামপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজটে অতিষ্ঠ হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নীতি নির্ধারকরা এ নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করছে না। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে বিগত সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রী বাবু স্বপন ভট্টাচার্য চাঁদ নাকি ‘একনেকে’র ভূমি অধিগ্রহণ আইনে অত্র সড়কের সংস্কার ও প্রসস্থ্যকরনে মণিরামপুর বনিক সমিতির সাবেক সভাপতির সহযোগিতায় ৩’শ কোটি টাকার প্রকল্পের অর্থ ঘাপলা করেছেন!কিন্তু অ বিষয়ে পাকাপোক্ত কোন তথ্য সংগ্রহ না থাকায় তা প্রকাশ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েকটি পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ স্থানীয় সংসদ সদস্য এড গাজী এনামুল হক সংসদে উত্থাপন করলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি একনেক। এদিকে চলতি এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মনিরামপুর বাসী।
চলতি নিয়মিত মনিটরিংয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মণিরামপুর শহরে পরিছন্নতা ফিরলেও যানজটের স্থায়ী সমাধানকল্পে এখনো পর্যন্ত ধোয়াসায় আছে ভুক্তভোগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,কতদিন থাকবে এই পরিছন্নতা! নিয়োগকৃত আনসার সদস্যরাই বা কতদিন করবে দায়িত্বপালন! তাহলে কি আবারো সেই নিত্য দিনের তীব্র যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হবে মণিরামপুর বাসীকে! এ সমস্ত বেপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ব্যাস্ততার কারনে কোন ধরনের মন্তব্য এ প্রতিবেদক’কে দিতে পারেন নি।