সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিসিক-জেলা প্রশাসনের মেলায় সেরা ‘সানন্দা বুটিক শুক্রবারে পাঞ্জাবি গায়ে “গুচ্ছগ্রামে” মণিরামপুর নির্বাহী কর্মকর্তা! শ্যামনগরে বসত ভিটা অবৈধ দখলের পাঁয়তারা যবিপ্রবির প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে আট বছরের জেরিন জন সাধারণের খাবার পানির পুকুর দখলকারী হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন যশোরে মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ভাঙ্গায় রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬০, আহত ১০ পুলিশ সদস্য ওজোপাডিকো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ দফা দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় লেবুতলা স্কুলের শিক্ষক নিহত

মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে আট বছরের জেরিন

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শিহাব উদ্দিন (গোপালগঞ্জ) জেলা প্রতিনিধি:গলায় ঝুলছে ছোট্ট একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, “আমার মা ও ৮ মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই।” প্ল্যাকার্ডটি গলায় ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এসে নীরবে বসে ছিল আট বছরের শিশু জেরিন। তার একটাই আবেদন— মাকে আর ছোট ভাইকে যেন বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

রোববার (২৮ জুন) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মায়ের মুক্তির দাবিতে সেখানে অপেক্ষা করছে জেরিন। তবে ওই সময় ইউএনও জেলা সদরে সরকারি কাজে থাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি শিশুটি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু জেরিনকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আকলিমার সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য ছেলেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। এরপর থেকেই পরিবারটি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেরিন বলে, “মা জেলে যাওয়ার পর থেকে আমার খুব কষ্ট হয়। ছোট ভাইটাও জেলে আছে। ও তো কিছুই বোঝে না। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি চাই মা আর আমার ছোট ভাই বাসায় ফিরে আসুক। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।”
জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা বলেন, “সংসারটা একেবারে ভেঙে গেছে। সাত মাসের ছেলে সন্তানটি জেলে বড় হচ্ছে, আর বাসায় তিনটি মেয়ে মাকে ছাড়া কষ্টে আছে। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত যদি জামিন দেন, তাহলে পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, “জেরিনকে প্রায়ই মায়ের জন্য কাঁদতে দেখি। শিশুটির এই আকুতি আমাদেরও কষ্ট দেয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা প্রয়োজন।”
কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু ও তিন কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”
একদিকে বিচারাধীন মামলা, অন্যদিকে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য একটি শিশুর আকুতি। দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জেরিনের ছোট্ট প্ল্যাকার্ডটি যেন বড় একটি প্রশ্ন তুলে ধরে— শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews