বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শার্শায় নিখোঁজ যুবক ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দূর্বাডাঙ্গায় পুলিশের কঠোর বার্তা গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি খুলনাবাসী একটি বিপদের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন — মজ্ঞু বাঁকড়া বাজারে যানজট, সড়কের অর্ধেক দখলে থাকে যানবাহন কেশবপুরের পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল পুলিশের হাতে আটক। আবারও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দেশসেরা যবিপ্রবি বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ ও কারাদণ্ড: নগরকান্দায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসনঃ যশোরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

ভাঙ্গায় রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬০, আহত ১০ পুলিশ সদস্য

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রিপন ভাঙ্গা ফরিদপুর প্রতিনিধি:ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন পুলিশ সদস্যও।

রোববার ২৮ জুন সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল, ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট ও চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাম কাজী ও শিরু মোল্লা পক্ষের সঙ্গে কবির তালুকদার ও দেলোয়ার তালুকদার পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রোববার সকালে সেই উত্তেজনা মানিকদহ ইউনিয়ন ও হামিরদী ইউনিয়ন ও১০ গ্রামবাসী চরমে পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষে রক্তখনী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভাঙ্গা থানার সার্কেল অফিসার, ওসি, এসআই ও কনস্টেবলসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই চারদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশুরা নিরাপত্তার কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারেনি। পুরো এলাকা এক পর্যায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর মহেশ্বরদী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,
“সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মহেশ্বরদী যেন পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আহত হন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যরাও। চার ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews