বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর মণিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনে অসংখ্য ফাটল,ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা! নিখোঁজের তিন দিন পর কপোতাক্ষ নদে মিলল ভ্যানচালক একলাসের মরদেহ যশোরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিপিএম-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ওসির খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকা– কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু কেশবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

ঝিকরগাছায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী শাশুড়ি চাচীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

মালিকুজ্জামান কাকা:যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামে নবীন গৃহবধূর অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই দাবি করেছেন রিমুর পিতা মাতা ও স্বজনরা। স্বামী শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদ ও তার আপন চাচী আসমাউল হুসনা কেয়ার মধ্যকার অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরেই রিমুকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শোকাহত বাবা শফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের নির্মম মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এসময় ফ্যানের সিলিং এ বাঁধা লাশের বর্ণনা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী আড়াই লক্ষ টাকা দেনমোহরে ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুলের ছেলে শিহাব শারিয়ার রিয়াদের সাথে পারিবারিকভাবে রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রিমু জানতে পারে তার স্বামী রিয়াদের সাথে আপন চাচী আসমাউল হুসনা কেয়ার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে প্রতিবাদ করলে রিমুর ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের মুখে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার প্রায় তিন মাস আগে রিমু বাবার বাড়ি চলে আসে। পরবর্তীতে দুই পরিবারের আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে সে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলেও স্বামীর অনৈতিক আচরণ বদলায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৩ জুন) রিমুর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।
নিহতের বাবার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটিকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে আত্মহত্যার কথা বললেও ঘটনার পেছনে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষ ফ্যানের একটি পাখায় ঝুললে পাখাটি বেঁকে যাওয়ার কথা থাকলেও তা অক্ষত ছিল। এছাড়া রিমুকে ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। রিমুর পিঠ, কোমর, উরু এবং ডান পায়ের তলায় রক্ত জমাট বাঁধা জখমের দাগ এবং গলায় চেইন বা শিকল জাতীয় কিছু দিয়ে শ্বাসরোধ করার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিমুর স্বামী রিয়াদ, শাশুড়ি রেহেনা সুলতানা, শ্বশুর শহিদুল ইসলাম এবং চাচী আসমাউল হুসনা কেয়া পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিজেদের পক্ষে নিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন প্রভাবশালী মাধ্যমে জোর তদবির চালাচ্ছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অসহায় এই পিতা কোনো প্রভাব, চাপ বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সাথে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত রিমুর স্বজন পিতা শফিকুল ইসলাম, মা নারগীস খাতুন, সবুজ হুসাইন, নাইমুর রহমান ও ইমরান।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews