
ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতির বাড়ি থেকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ অস্ত্র উন্নতমানের (এরায়গান) উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।
শনিবার গভীর রাতে প্রাপ্ত স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী পাইকগাছা উপজেলার ৯নং চাঁদখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান গাজী ওরফে হবি মেম্বারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের খবর টের পেয়ে হবি মেম্বার ও তার চার ছেলে—মুছাল, কাইয়ুম, শাহীন ও সাইফুল—ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যৌথবাহিনী হবি মেম্বারের বসতঘর থেকে একটি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ উন্নত মানের (এয়ারগান) উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায় উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি ব্যবহার করে হবি মেম্বার ও তার পাঁচ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর চাঁদখালী বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিঘার পর বিঘা সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হবি মেম্বারের ছেলে আকরাম গাজী সরকারি ওয়াবদা ও খাস জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির সময় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে হাতেনাতে আটক হন। ওই ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ শত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি ওয়াবদার মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় হবি মেম্বার ও তার চার ছেলে স্থানীয় মুরুব্বি শফিকুল গাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। একই ঘটনায় সবুজ সরদার নামের আরেকজন মুরুব্বিকে বাড়ি থেকে ধরে এনে তার সন্তানের সামনে পিটিয়ে আহত করে।
জানা যায়, একই ঘটনায় রাজ্জাক গাজী নামের এক বৃদ্ধকে ধাওয়া করলে তিনি পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে তিনি স্ট্রোক করলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এলাকার ২-৪ জন যুবককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদখালী বাজারে হবি মেম্বার ও তার ৪ ছেলে কয়েক জনকে পিটিয়ে আহত করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আহতদের স্বজনরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে যৌথবাহিনী রাতেই অভিযান পরিচালনা করে।
তবে অভিযুক্তদের আটক করতে না পারায় পুরো এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।