বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শার্শায় নিখোঁজ যুবক ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দূর্বাডাঙ্গায় পুলিশের কঠোর বার্তা গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি খুলনাবাসী একটি বিপদের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন — মজ্ঞু বাঁকড়া বাজারে যানজট, সড়কের অর্ধেক দখলে থাকে যানবাহন কেশবপুরের পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল পুলিশের হাতে আটক। আবারও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দেশসেরা যবিপ্রবি বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ ও কারাদণ্ড: নগরকান্দায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসনঃ যশোরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

বেনাপোলে ভুঁইফোড় আল ফালাহ ইসলামীক স্কলারস স্কুল বন্ধ:দায় কার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে

যশোর অফিস : যশোরের বেনাপোল মহাসড়কের তালশারী মেইন রোডের পাশে অবস্থিত ভুঁইফোড় আল ফালাহ ইসলামীক স্কলারস স্কুলটি হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শওকত আলী। পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়াই স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে স্কুলে পড়ূয়া ১৩৫ জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্কুল বন্ধ করায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে উপজেলা জুড়ে। তবে এ দায় কার প্রশ্ন সচেতন নাগরিকদের।

 মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে স্কুলে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে গিয়ে দেখে প্রধান গেটে তালা ঝুলছে। পরে অভিভাবকরা এসে স্কুল বন্ধ দেখে ও স্কুলের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় অভিভাবকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শওকত আলীকে ঘটনা জানতে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।
অভিভাবকরা জানান, স্কুলে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বছরের মধ্য সময় এসে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে পড়ে এই শিক্ষার্থীরা। আজ শুনছি স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এখন আমরা বাচ্চাদের কি করবো কোথায় ভর্তি করবো। কেন হঠাৎ প্রধান শিক্ষক স্কুল বন্ধ করলো আমরা এর সুবিচার চাই। অভিভাবকরা বিষয়টি বেনাপোল পৌরসভার প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ কাজী নাজিব হাসান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শওকত আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই স্কুল চালিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছি একারনে স্কুলটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বন্ধ করে দিয়েছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে পাঠদানের অনুমতি পেতে হলে অনেক গুলো গুরুত্বপুর্ন পথ অতিক্রম করতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ও ভৌগলিক রূপ দান করা। জমি থাকতে হবে দশমিক ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ, শ্রেণিকক্ষ ৫টি, অফিস কক্ষ ২টি, লাইব্রেরি, টয়লেট, কমনরুম, খেলার মাঠ থাকতে হবে। লাইব্রেরিতে বই থাকতে হবে। কম্পিউটার থাকতে হবে । সাধারণ ও সংরক্ষিত তহবিল মিলিয়ে লাখ টাকা থাকতে হবে। শিক্ষার্থী থাকতে হবে শহরে ১২০ থেকে ২০০ জন। আর মফস্বলে ৯০ থেকে ১৫০ জন। তাহলে আল ফালাহ ইসলামীক স্কলারস স্কুলের পাঠদানের অনুমতি কে দিলো? তাদের লাইসেন্স বা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কোন তদরকি বা অনুমতি ছাড়াই কিভাবে এই ভুঁইফোড় স্কুল চালু করলো।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা হয় না শিক্ষার্থীদের। এতে প্রতারিত হন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রতি বছর এ ধরনের ভুল, প্রতারণা কিংবা উদাসীনতায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হুমকিতে পড়লেও কঠোর কোনো শাস্তির নজির নেই।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ কাজী নাজিব হাসান জানান, বেনাপোলে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে শুনেছি। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বলেছি আগামিকাল স্কুলে যাবেন তিনি। তাছাড়া এই স্কুলে পড়ূয়া শিক্ষার্থীদেরকে অন্য কোন স্কুলে শিফট করা যায় কি তার ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews