বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভাঙ্গায় যুবক নিহতের ঘটনায় থানা ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ রক্ত আনতে গিয়ে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে সাংবাদিক-পত্নী; চিকিৎসার ৩৮ হাজার ৭০০ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল খোয়া। মণিরামপুরে পোষা বিড়ালকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুরে মৎস্য ঘের থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহারে নির্মিত হচ্ছে শ্যামনগরে ডি- সেট সেন্টার ​যশোরে নবচেতনার দুই মাসব্যাপী ‘গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন’ শুরু, গাছের চারা বিতরণ শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে যশোরে এসএসসি শিক্ষার্থী শাম্মী হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বিনিয়োগ-বান্ধব অর্থনীতির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস স্থল বন্দর বেনাপোল কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাই বরখাস্ত

শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা সোহাগ হোসেনের (৩৫) বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইউএনও ও ওসি বরাবর সোহাগ হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার বসতপুর এলাকার আবুল হোসেন। তিনি ওই এলাকার মৃত মতলেব গাজীর ছেলে।

সোহাগ হোসেন বিভিন্ন পত্রিকার বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি উপজেলার বাগুড়ী গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের বসতপুর এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহাগ হোসেন, শাহারুল ইসলাম রাজ ও মিজানুর রহমান বেকারীতে প্রবেশ করেই আবুল হোসেনের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই তার বেকারীর ভেতরে প্রবেশ করে ছবি ও ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বলেন- কিভাবে বেকারী চালায় দেখে নেবেন। যদি বাড়াবাড়ি করিস তাহলে তোর বেকারীর কারখানা ইউএনও সাহেবকে দিয়ে বন্ধ করে দেবো। তুই জানিস না আমাদের কলমের অনেক মূল্য, ইচ্ছে করলে এখনই মোবাইল কোর্ট বসাতে পারি বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে সোহাগ ও তার সহযোগিরা। একপর্যায়ে তিনি নিরুপায় হয়ে তিন হাজার টাকা দেন সোহাগের হাতে। তিন হাজার টাকা পেয়ে রাগান্বিত হয়ে সোহাগ ও তার সহযোগিরা বলে যান ব্যবসা করতে চাইলে সন্ধ্যার মধ্যে বাকি টাকা ০১৭৬৮৯৭৯৬৩৬ এই বিকাশ নাম্বারে পাঠিয়ে দিবি। বাকি টাকা না দিলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে তোর বেকারীর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে এমন হুমকি দিয়ে চলে যান সোহাগ ও তার সহযোগিরা। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি বরাবর পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, আমরা দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন অন্যের বেকারীতে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টের পর নিজ উদ্যোগে ছোট পরিসরে বসতবাড়িতে একটি বেকারীর কারখানা গড়ে তুলেছি। এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই আমার কোনরকম সংসার চলে। এটিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। এ ধরনের ঘটনায় তিনি চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এর আগেও সাংবাদিক পরিচয়ে সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার বেলতলা বাজারে আমের আড়তদার মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে সোহাগ চাঁদা দাবি করলে ওই সময় স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে আম ব্যবসায়ী সোহাগের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরা আমলি আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। জেল থেকে বের হয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন চাঁদাবাজিতে।

এ বিষয়ে সোহাগ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি আমি থানার ওসিকে জানিয়েছি। তদন্ত করে ওসি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

তিনি বলেন, ইদানীং শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা তাদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews