
যবিপ্রবি প্রতিনিধি: সোমবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন যোগদান করে। অনুষ্ঠান শেষে পরিদর্শনে যান যবিপ্রবির ২০০৬ সালের ৫ আক্টোবর স্থাপন করা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামের ভিত্তিপ্রস্তরটি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন সকল স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে। ক্ষতিগ্রস্থ এই ভিত্তিপ্রস্তরটি দেখে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন এভাবে আমাদের কলিজাতে কত আঘাত তারা করেছে! ঠিক এইভাবে আমার নেতা তারেক রহমানের কোমর চির ধরছে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত অথবা পরিচিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেউ বরখাস্ত, কেউ বদলিসহ নানান ব্যবস্থায় সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন সকল স্মৃতি মুছে ফেলার প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম ভাঙচুর করে। স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাড়িচালক সাহের আলীকে বাধ্যতামূলক তিন দিনের ছুটি ছাড়া অভিযুক্তদের আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্তসহ নেপথ্যের লোকেরা এখনও আছেন বহাল তবিয়তে এবং তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে দিন দিন। এঘটনার পরে গাড়িচালক সাহের আলীকে চাকরি মাস্টার রোল থেকে স্থায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র বলেছে, সে এখন ভিআইপি গাড়ি চালায়। ৫ আগস্টের পর পর অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে বরখাস্ত বা বদলি হলেও তার কিছু হয়নি। কারণ পরিবহন বিভাগ পরিচালনা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী পক্ষ দ্বারা। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এখনও বহাল আছেন। বিশেষকরে এস্টেট বিভাগ থেকে শুরু করে পরিবহন বিভাগ পর্যন্ত তাদের অবস্থান দৃশ্যমান। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় বেগম খালেদা জিয়া একটি নিম গাছ রোপন করেছিলেন। ওই নিম গাছটি যাতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে না পারে সে জন্য ভিত্তিপ্রস্তরের পাশে একটি বট গাছ রোপন করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট বিভাগের আওয়ামী কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মরত একজন জানান, আমি বটগাছ না লাগানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সংরক্ষনের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করি কিন্তু আমার কথা না শুনে উল্টো তিনি আমাকে অন্যত্র বদলিসহ বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যারা তখন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন, তারা এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, “যেখানে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক সৌজন্য ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অতীতের এমন একটি ঘটনার বিচার না হওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।”