
নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা হাসপাতাল মোড়ে ডাক্তার নার্স ছাড়াই চলছে সালমা মেডিকেল সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক। মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিবন্ধন বিহীন এ ক্লিনিকে হরদমে চলছে সিজারসহ নানাবিধ অপারেশন, কিন্তু ক্লিনিকে কোন ডাক্তার – নার্স নাই। যা দেখার যেন কেউ নেই ?
ঝিকারগাছার বহুল আলোচিত ফেমাস মেডিকেলের কথিত ডাক্তার আজগার আলী সালমা মেডিকেলে সিজার করছেন এমন সংবাদে সাংবাদিকেরা উক্ত ক্লিনিকে গিয়ে দেখতে পান, ওটি থেকে আজগার আলী এবং হাসপাতালে পরিচালক মমতাজ বেগম সদ্য সিজারিয়ান রোগিকে বের করছেন বেড়ে দেওয়ার জন্য।
এসময় সাংবাদিকেরা আজগার আলীর নিকট ওটিতে থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার পরিচিত রোগি হওয়ায় আমি ওটিতে ছিলাম। তাছাড়া ক্লিনিকে তেমন কোন স্টাফ না থাকায় তাকে ওটি থেকে বের করে আনতে আমি সহযোগিতা করেছি। কিন্তু আমি ওটি করিনি। সাংবাদিকদের দেখে কথিত ডাক্তার আজগার আলী কৌশলে ক্লিনিকের পিছনের দরজা দিয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। গুঞ্জন রয়েছে, ডাক্তারের ছদ্মবেশে আজগার আলী ও শরিফ উদ্দিন বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজার করে বেড়ান।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছার ফেমাস মেডিকেলে তাদের হাতে সিজার করায় সোহানা নামে এক সিজারিয়ান রোগির মৃত্যুতে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসন উক্ত প্রতিষ্ঠানে কাউকে না পেয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালা ঝুলানোর পর থেকে কথিত ডাক্তার আজগার আলী ও শরিফ উদ্দিন আত্মগোপনে রয়েছেন। আত্মগোপনে থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আজগার আলী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মাষ্টার সোহাগ ক্লিনিকের তালা খোলার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে বহুল আলোচিত ফেমাস মেডিকেলের কথিত ডাক্তার আজগার আলীকে সালমা মেডিকেলের ওটিতে থাকার সংবাদে ঝিকরগাছাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ডিএসবি তুষারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের একটি টিম ক্লিনিকে এসে কথিত ডাক্তার আজগার আলীর মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করার মুহুর্তে তিনি বিএনপি নেতা মাষ্টার সোহাগকে নিয়ে সালমা মেডিকেলে এসে হাজির হন। স্থানীয় বিএনপি নেতা মাষ্টার সোহাগ রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আজগার আলী ও সালমা ক্লিনিকের পক্ষ হয়ে ডিএসবি ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন এবং অকথ্যভাষায় গালি-গালাজ করেন। যার একটি ভিডিও ফুটেজ অত্র প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাভারন থেকে আসা এক রোগীর স্বজন আজগার আলীকে দেখিয়ে জানান, রোগী সিজারের পর ওই লোক বাচ্চাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দিচ্ছেন। ওটিতেও তাকে থাকতে দেখেছেন। আসলে তিনি কে আমরা জানি না।
অপর আর এক রোগীর পিতা জানান, আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম সিজারের জন্য। আজগার ও তার ছোটভাই সবুর আমাদের এ ক্লিনিকে নিয়ে এসেছেন কম খরচে সিজার করিয়ে দিবেন বলে। তার কথা মতো আমরা এই ক্লিনিকে নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে আমার মেয়ের সিজার করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক মমতাজ বেগম জানান, তার ক্লিনিকে নিজস্ব কোন ডাক্তার নেই। সিজার করতে হলে এস কে ক্লিনিকের ডাঃ নাঈমসহ অন্যান্য ডাক্তারদেরকে জানালে তারা এসে করে দিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, ২০২২ সালের পর থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র আপডেট নাই। আমি নবায়নের জন্য আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রশিদের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, খবর পেয়ে আমি আরএমও কে ক্লিনিকে পাঠিয়েছিলাম এবং ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি। ডাক্তার নিজে সিজার করেছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ক্লিনিকের কাগজপত্র নবায়ন নাই। আমি সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা বলেছি, পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।