সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চেকপোস্টে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবির ওয়ারেন্ট অফিসার আলমগীর নিহত, শোকপ্রকাশ করেছে এসআরবি পরিবার যশোর চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত, আহত ২ যশোর শহরে ডিবির অভিযানে ১৬ যুবক আটক যশোরে এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে তল্লাশি ও নারীকে হেনস্তার অভিযোগ যশোর নওয়াপাড়ায় শ্রমিক সরদারকে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ যশোরে ছাত্রীনিবাস মালিকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর ভাংচুরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আয়কর আইনজীবীকে হুমকি দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা! যশোরে জামায়াতের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক মানববন্ধন ও র‍্যালি যশোরে ১০-১৫ দিন ধরে সিএনজি সংকট পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড, দুর্ভোগে অ্যাম্বুলেন্স ও রেন্ট-এ-কার চালক

ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে:খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি ও অপসারণকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। সরকারি নির্দেশনা এবং প্রশাসনের পূর্বের অভিযানের তোয়াক্কা না করে দিন-রাত ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে খননকৃত মাটি দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভেস্তে যেতে বসেছে নদী খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জরিমানা ও সাময়িক বিরতির পর ‘যেমন কে তেমন’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদী খননের মাটি নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা করার কথা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে এই সিন্ডিকেট। চক্রের মূল হোতা হিসেবে খর্ণিয়ার পাঁচপোতা এলাকার চিহ্নিত মাটি খেকো রফিক ফকিরের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরোক্ষ সহযোগিতায় এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে।

এর আগে গত ৪ জুন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে “ভদ্রানদী খননের মাটি হরিলুট, প্রশাসন নিরব!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পর গত ৬ জুন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস সরেজমিনে অভিযান চালান। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি ব্যবসায়ী রফিক ফকিরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। গত ২৬ জুন শুক্রবার দিনব্যাপী বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি ও কৃষি জমি ভরাটের কাজ চালিয়েছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ক্রেতা জানান:
“আমরা ওপরের মহল ম্যানেজ করেই রফিকের কাছ থেকে মাটি কিনে জমি ভরাট করছি। প্রশাসন সব জানে।”

সরকারি নিয়ম বনাম বাস্তব চিত্র সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বিষটি পরিষ্কার করে বলেন: নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচ থেকে ঠিকাদারের নদী ভরাট করা মাটি অপসারণের কথা রয়েছে।
কিন্তু খননকৃত মাটি কোনোভাবেই স্থানান্তর বা অন্যত্র বিক্রি করার কোনো বিধান নেই।

নির্বিকার প্রশাসন, জনমনে প্রশ্ন অভিযোগ উঠেছে, নদী খননের মাটি হরিলুটের এই চিত্র ও স্বচিত্র তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসকে একাধিকবার মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণে স্থানীয় জনগণের মনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের দানা বাঁধছে।

অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভদ্রা নদীকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ডুমুরিয়াবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews