বিশেষ প্রতিবেদক: অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত যশোর-খুলনা মহাসড়কের রাজাহাট থেকে মনিরামপুর ও কেশবপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। জরুরি সংস্কারকাজের ফলে সড়কটি এখন অনেকটাই চলাচলের উপযোগী হয়েছে। স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকেরা। এতে যশোর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও চুকনগর অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরেছে।
গত বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি এবং পিচ উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সাময়িকভোগান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয় যশোর সড়ক বিভাগ। সংস্কারের ফলে সড়কটি আবারও আগের মতো মসৃণ ও চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের শেষ দিকে সড়কটির মূল নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ হয়। সড়কটির বর্তমান ঠিকাদারের রক্ষণাবেক্ষণ কাল পার হয়ে গেছে তবে মোংলা বন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ১০ চাকার ট্রাকসহ অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
সড়কে চলাচলকারী মাইক্রোবাসচালক আব্দুল মাজেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকায় চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি হতো। এখন রাজাহাট থেকে চুকনগর পর্যন্ত সড়ক অনেক ভালো হয়েছে। যানবাহন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে।
সওজের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা বলেন, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক সময় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সহযোগিতা করলে সড়কটি দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব হবে।
সড়কটি সংস্কারের ফলে সাময়িক ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকেরা। তাঁদের মতে, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী ও পণ্যবাহী অসংখ্য ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়কটি ভালো থাকায় স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সড়কের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।