নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বাস্থ্য নীতি বহির্ভূত অসংখ্য ত্রুটি নিয়ে সেবাদানের নামে কসাইখানা খুলে বসেছে মণিরামপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল। ভারতীয় নচিকেতার কালজয়ী গানের প্রতিচ্ছবি হয়ে 'রোগীকে খদ্দের' বানিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ ক্লিনিকে দেদারসে রমরমা বানিজ্য করে যাচ্ছে মণিরামপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের কথিত মালিক পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার সাবেক শিবির নেতা মোঃ আনিছুর রহমান। তথ্য আছে, কয়েকটি অল্প বয়স্ক অনভিজ্ঞ নারীদের নার্স হিসাবে নিয়োগ দিয়ে এবং স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত পন্থীদের হাত করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১'শ গজের মধ্য মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্রে বিগত মালিক প্রবাসী নুরুল ইসলাম নাহিদের নামেই হাওয়ার উপর চলছে কথিত মালিক আনিছুর রহমানের হসপিটাল নামের কসাইখানা। ২০২৩-২০২৪ইং অর্থ বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবায়ন কৃত লাইসেন্স অব প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিকের নির্ধারিত ১বছর মেয়াদী বৈধতার তারিখ ২০২৪ সালের জুন মাস উল্লেখিত থাকলেও শুক্রবার(৩০শে অক্টঃ) চলতি এ তথ্য সংগ্রহের সময় পর্যন্ত সাবেক মালিকের নামের ২ বছর আগের মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স ঝুলিয়ে রেখেছে মণিরামপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বেলা ১২টার পর পরই রিসিপশনে বসে থাকা দুই যুবতীর সাথে কথা বলে জানা গেলো, মালিক থাকেন না, মাঝে মধ্যে আনিছুর রহমান আসেন,সেটা আবার ২ মাসে ১/২ বার,আসেন মধ্যরাতে চলে যান হুট করে। ম্যানেজার মোঃ জহুরুল ইসলাম নাই,১দিনের ছুটিতে আছেন আর সোহাগ হাসান গেছেন তার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে রক্ত দিতে। ২য় তলায় প্রতিটি বেডে সিজারের রোগী,সার্বিক দেখাশোনা করছেন মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করা আছিয়া খাতুন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ প্রতিষ্ঠানেরই এক সাবেক কর্মচারী জানান যে, এই আছিয়া খাতুনই নাকি সেন্ট্রাল হসপিটাল নিয়ন্ত্রন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের চা-চিনি ক্রয় হতে প্রতিষ্ঠানের কথিত মালিক আনিছুর রহমান কখন আসবেন,কোথায় বসবেন,কি খাবেন,এমন কি কোথায় তিনি রাত্রী যাপন করবেন সেটাও এই আছিয়া খাতুনের দ্বারা নির্ধারিত হয়।গোপন তথ্য আছে, সেন্ট্রালের আশপাশেই একটি নিরিবিলি টিন শেটের একাধিক কক্ষের ফ্লাট নেওয়া আছে,মণিরামপুরে আসলেই সেখানেই বিশ্রাম করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের কথিত মালিক ও তার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠান দেখভাল করা একান্ত স্টাফ এবং বাংলাদেশ জামায়াতী ইসলামের হাতে গোনা কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা। তথ্যসূত্রের দাবী,প্যাথলজিস্ট হিসাবে সুমাইয়া ও সোহাগ হাসান ২জন থাকলেও বেশিরভাগ সময় সুমাইয়া থাকেন না,তবুও তার স্বাক্ষরেই সকল ধরনের রিপোর্ট বের হয় ল্যাব হতে। এদিকে স্বাস্থ্য নীতিতে প্রতিটি ক্লিনিক বা ডায়াহনস্টিক সেন্টারে ৩ জন ডিপ্লোমা সম্পন্ন নার্স উল্লেখ থাকলেও সেন্ট্রাল হসপিটালের একমাত্র ডিপ্লোমা সম্পন্ন নার্স সুমাইয়া প্যাথলজিতে থাকেন,অপর প্যাথলজিস্ট সোহাগ হাসানের সার্টিফিকেট না থাকলেও অভিজ্ঞতা আছে বলে জানান তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অপারেশন থিয়েটার আছে এমন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করবেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) কিন্তু ২৪ ঘন্টায় ৬-৭ ঘন্টা সেন্ট্রাল হসপিটালে থাকেন কর্তব্যরত চিকিৎসক বা আবাসিক মেডিকেল অফিসার।দিনের আলোতে যায় হোক,সন্ধার পর ওটি থাকলে সেটা শেষ করেই ফিস নিয়ে কেটে পড়েন ডাক্তার। ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় হচ্ছে সিজার,তার সাথে সারা রাত স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে সেন্ট্রাল হসপিটালে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা। উল্লেখিত ত্রুটিগুলো নিয়েও স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে আনিছুর রহমানের প্রকাশ্য স্বাস্থ্য নীতি বহির্ভূত অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসায় কর্তৃপক্ষ লাভবান হলেও ইতিপূর্বে সেন্ট্রাল হাসপাতালের কার্যক্রম কয়েকজন সেবা গ্রহীতারা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য আছে, সাবেক মালিক নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তাদের শেয়ার পার্টনারদের বিনিয়োগ করা অর্থের অংশ ২০২৪ সালের শেষের দিকে দায় দেনা কম-বেশি করে মিটিয়ে দিয়ে আনিছুর রহমান একক ভাবে ক্লিনিকের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিগত মালিক নাহিদের নামের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সম্পূর্ণ বেওয়ারিশ হয়ে ২৪ ঘন্টা প্রশ্নবিদ্ধ সেবা দিয়ে যাচ্ছে মণিরামপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল। পৌরসভার তাহেরপুর গ্রামের আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন,তার বোন শারমিনকে কয়েক মাস আগে সেন্ট্রাল হসপিটাল সিজার করানো হয়। সন্ধায় সিজার করার পর রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাচ্চার শরীর নীল হয়ে গেলেও কর্তব্যরত কোন ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ক্লিনিকের লোকজন বলে আপনারা বাচ্চাকে যশোরে নিয়ে যান। ঐ রাতে সংকটপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে যশোরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকালেই বাচ্চাটি মারা যায়। সে সময় সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, বাচ্চাটির অবস্থা খুবই খারাপ অবস্থায় নিয়ে আসছিলেন,যদি আগে হতে নিয়ে আসতেন হয়তো বাচ্চাটিকে বাঁচানো যেতো।
এমন অসংখ্য ভুক্তভোগী এর আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও অজানা কোন ক্ষমতার কারনে কোন ভুক্তভোগী পাননি ক্ষতিপূরণ,নেইনি কেউ কোন ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে কথা বলতে কথিত মালিক মোঃ আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোনকলের সাড়া দেননি। তিনি ঢাকার কোন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সরাসরি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সালের সাথে কথা হলে তিনি সেন্ট্রাল হসপিটালের কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র সহ তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। আধুনিকতার এ যুগে সচেতন মহলের চোখের সামনেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ১শ গজের মধ্য স্বাস্থ্য নীতি বহির্ভূত এহেন কর্মকান্ডের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনকে অবগত করলে,সত্যতা মিললে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।