এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ স্বজনদের আহাজারি নেই,কিন্তু লোক সমাগম বাড়িতে অনেক। শোকাহত পরিবারের উৎকন্ঠার ১১দিনের মাথায় মোহনপুরে পৈত্রিক ভিটায় এসে পৌঁছেছে এক সাথে দুই প্রজন্মের ৪টি মৃত দেহ। বুদবার(২৮শে অক্টঃ) সকাল ৭টা নাগাত লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সে মৃত নাহিদুর রহমান তুহিন- আফসানা তানজি দম্পতি ও তাদের ৭ বছরের মেয়ে রোবাইনা ও ৩ বছরী সুনাইনার দেহাবশেষ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।তবে খোলা হয়নি বাহনের দরজা,ডিএনএ-র রিপোর্টে পরিচয় শনাক্ত হওয়া একই পরিবারের চার মৃত দেহবশেষ দাফনের প্রক্রিয়ায় কবরস্থানে দেখা মেলে শোকের আরেক আবেগঘন পরিবেশ। পর পর ৪টি কবর খুঁড়ে হতবাকচিত্তে গোরখোদকেরা জানান যে,এর আগে ৩টা পর্যন্ত কবর খুড়েছি,আজ এক পরিবারারের ৪টি খবর খুড়ে নিজেদেরকে সামাল দিতে একটু কষ্ট হচ্ছে।
নাহিদ দম্পতি ও দুই ফুটফুটে কন্যা স্ব-পরিবারে(৪জন) গত ১৭ই অক্টোবর শনিবার ভোর ৬টা নাগাত কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত হয়।
পরিবারটি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করত। নাহিদুর রহমান সেখানে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ৪টি তাজা প্রাণ অকালে হারিয়ে নাহিদের পিতা মতিয়ার রহমান শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। শোকাবহ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের অনুরোধে কয়েকটা কথা বলে নাহিদের পিতা মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন,যদি কোটি টাকাও ক্ষতিপূরন দেওয়া হয় তবুও কেউ এ ক্ষতির পূরন করতে পারবে না। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী করছি,কক্সবাজার উখিয়ার ইনানীর মতো এ রকম অবৈধ কোন রিসোর্ট বা প্রতিষ্ঠান যেনো সুযোগ না পাই,সরকারি নিয়মের বাইরে যেনো কোন অসাধু ব্যবসায়ী স্থাপনার সুযোগ যেনো না পায়,যারা এমন ভয়াবহ কাজে সম্পৃক্ত তাদের বিচার করা হোক। আর যেনো কোন পরিবার এভাবে অকালে না হারায়।
তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান,পারবারিক কবরস্থানে ছেলের মায়ের পাশেই সবাইকে সমাহিত করা হবে। উল্লেখিত এ ৪টি মৃত দেহের জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্তানেই এক পরিবারের দুই প্রজন্মের দাফন সম্পন্ন করা হয়। ভয়াবহ এ অগ্বিকান্ডে এক পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যুর ১১দিনের মাথায় দাফন-কাফনের খবরে গোটা সোস্যাল মিডিয়ায় শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।