
বিশেষ প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেছেন সাবেক সেনা সদস্য কে.এম. শহিদুজ্জামান। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি যশোরের স্থানীয় পত্রিকা যশোর বুলেটিনে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রয়াত সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান। তিনি ওই রেজিমেন্টে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাপোর্ট ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বাছাই হয়ে তিনি সেনা সদর দপ্তরে সেনা প্রধানের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাত বরণ করার সময় তিনি ২ মাসের বাৎসরিক ছুটিতে বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বলে দাবি করেন। ১৯৯০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ জেলার সেলিম চৌধুরী সড়ক, আরাপপুরে বসবাস করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, নিজ বাড়ির রাস্তার জমি নিয়ে পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। নিজের জায়গা দিয়ে রাস্তা করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী তাকে মারার জন্য আক্রমণ করে। তিনি প্রায় ১ কিলোমিটার দৌড়ে স্থানীয় এমপি মশিউর রহমানের পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং তৎকালীন দৈনিক নির্ভীক পত্রিকায় ছবিসহ অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন মামলা করতে পারেননি। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি অত্যাচার সহ্য করে সেখানে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির জমি নিয়ে আবার বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন (মামলা নং- ২৩৬/২০)। পরে পারিবারিকভাবে আপোষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
তার অভিযোগ, মীমাংসার ১১ মাস পর তার স্ত্রীর বড় বোনের উদ্যোগে আরাপপুরে একটি সালিশ ডাকা হয়। বিশ্বাস পাড়ার মাতব্বর মোঃ হাকিম বিশ্বাস ও পৌর কমিশনার মোঃ ছাদেক আলী বিশ্বাস তাকে সালিশের খবর দেন। পারিবারিক সালিশ বলা হলেও আরাপপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের অফিসে গিয়ে তিনি ২০-৩০ জন লোকের উপস্থিতি দেখতে পান।
সাবেক এই সেনা সদস্যের দাবি, বক্তব্য দেওয়ার সময় পূর্বের বিরোধের সাথে জড়িত কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং অফিসের শাটার নামিয়ে দিতে বলেন। এ সময় তিনি প্রাণভয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করলে বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাস তাকে উদ্ধার করে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দেন।
এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।