ইমরান হোসেন, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে পরিকল্পিতভাবে ‘হানিট্র্যাপে’ ফাঁসিয়ে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে চাঁদা দাবি ও সম্মানহানি করায় অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুলতানা নাসরিন।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সুজাপুর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী সুলতানা নাসরিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দলের সুযোগ নিয়ে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হালিম মোড়ল এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. কামরুজ্জামান কামালের যোগসাজশের মাধ্যমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে আলতাপোল ০৫ নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন বিশ্বাসের মেয়ে তহমিনা টিটো তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চক্রান্ত বাস্তবায়নে নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেছেন সদর ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন মনা। আর মাঠপর্যায়ে ঘটনাটি ঘটাতে সহায়তায় ছিলেন ০৪ নং ওয়ার্ড আলতাপোল উপজেলা অফিস পাড়ার আশিকের ছেলে জুয়েল, মণি এবং ব্রহ্মকাটি গ্রামের রুবেল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী সুলতানা নাসরিন দাবি করেন, "উক্ত নারী আমাদের কাছে উল্লেখ বিষয় স্বীকার করেছেন যে, তিনি ০৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হালিম মোড়ল এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. কামরুজ্জামান কামালসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের অব্যাহত চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে আমার স্বামীকে সেখানে ডেকে নিয়েছিলেন।"
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর স্ত্রী আরও জানান, ঘটনাটি গত মাসের হলেও চক্রান্তকারী চক্রটি সেই ধারণকৃত ভিডিও পুঁজি করে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে আসছে। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর স্বামীর দলীয় ও পারিবারিকভাবে সম্মানহানি করেছে।
ইউপি মেম্বার কামরুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুলতানা নাসরিন বলেন, "বিগত ১৭ বছর ধরে কামাল ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও থানার দালাল হিসেবে পরিচিত ছিল। তার চক্রান্তে আমার স্বামী দুইবার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন। বর্তমানেও সে বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।"
সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ সকল ষড়যন্ত্রকারিদের তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার জন্য বিএনপির হাইকমান্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।