১৫ সদস্যের নতুন কমিটি, সভাপতি অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন
যশোর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) যশোরের সিসিটিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী সভাপতি এবং শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মহিদুল হক খান শিলু। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আজিজুল হক মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এবং স্থপতি ইকবাল হাবিব। এ ছাড়া বক্তব্য দেন রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস এবং এডাবের সভাপতি ও আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল আলম। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন দীপক কুমার রায়।
নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষার দাবি
সম্মেলনে যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী, ভৈরব নদ, বিল হরিণা এবং বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। মুক্তেশ্বরী নদী ও বিল হরিণা রক্ষার আন্দোলনের পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন। তিনি নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ২৭ বিল উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক গোলজার হোসেনসহ পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জলাবদ্ধতা ও জলাশয় সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, নদী-খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা না গেলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ও জনজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যশোর শহরের পরিকল্পিত নগরায়ণে ১০ প্রস্তাব
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল যশোর শহরের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নগর সুশাসন। এ বিষয়ে বাপার নগরায়ণ ও নগর সুশাসনবিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি ইকবাল হাবিব শহরের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
তিনি নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ সচল রাখা, জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং নগর সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নাগরিক সমাজ ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন, মুক্তেশ্বরী ও ভৈরব নদ, বিভিন্ন খাল-জলাশয় এবং ভোলাট্যাং পুকুরের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বাপার পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং নবগঠিত কমিটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রয়াত পরিবেশকর্মীদের স্মরণ
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে পরিবেশ আন্দোলন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের সংগ্রামে অবদান রাখা প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাপা যশোর অঞ্চলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক প্রয়াত ডা. কাজী রবিউল হক, অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, বাপা ভবদহ অঞ্চলের প্রতিনিধি প্রকাশ চন্দ্র ধর এবং ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি রণজিৎ কুমার বাওয়ালি।
তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব আবু সাঈদ মো. আতিকুর রহমান সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
নতুন কমিটির অন্যান্য পদে যাঁরা
১৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ মো. আতিকুর রহমান, সহসভাপতি ডা. আহসান হাবিব, যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার বালা, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রাবস্তী আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ টিটোভ জামাল, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুদ্দীন আহমেদ এবং গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এম. এ. গফুর।
কমিটির সদস্যরা হলেন শামছুন্নাহার পান্না, আক্তার জাহান ঝর্ণা, জেনিফার জেনি, নিলুফার ইয়াসমিন, বাবর আলী গোলদার ও রোকনুজ্জামান শিমুল।
সম্মেলনে যশোরের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা, নদী-খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাপার কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।