যবিপ্রবি প্রতিনিধি:বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ গবেষক। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম। এ ছাড়া দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যবিপ্রবি। গত বছর এ তালিকায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নবম অবস্থানে ছিল যবিপ্রবি। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে বেশি ২২ জন শিক্ষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ের গতকাল (৭ অক্টোবর) যৌথভাবে এ তালিকা প্রকাশ করে। স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা প্রবন্ধকে ভিত্তি হিসেবে ধরে ২২টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও ১৭৬টি উপক্ষেত্রে শ্রেণিবদ্ধ করে দুটি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ তালিকায় পুরো পেশাগত জীবনের গবেষণা কার্যক্রমের ওপর মূল্যায়ন করে ‘ক্যারিয়ার-লং’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন যবিপ্রবির চার শিক্ষক। তারা হলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান, তিনি এনালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ১১৩তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ২৭৫৬২ তম। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম, তিনি এনার্জি বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৪৩৩তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ১৫৮৫৯ তম ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তিনি ন্যানোসায়িন্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৬৫৬ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ১৯৬৭৪ তম। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. ইঞ্জিনিয়ার ইমরান খান, তিনি এনার্জি বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৮১১ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ২৯৮৯৬ তম অবস্থানে রয়েছেন।
বিগত এক বছরের গবেষণা কার্যক্রমের ওপর মূল্যায়ন করে ‘সিঙ্গেল-ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে এ চারজনের পাশাপাশি যবিপ্রবির আরও সাত শিক্ষক এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তারা হলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিয়ার রহমান, তিনি এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ২৩৩৬ তম এবং বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ১০১৭৭৭ তম। পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক সাইবুর রহমান মোল্লা, তিনি এনভায়রনমেন্ট সাইন্স বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৩০৭৬ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ১৩১২৮৯ তম। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বিপ্লব হোসেন, তিনি অপটোইলেক্ট্রনিক্স এবং ফোটোনিক্স বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৩৩৮তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ১৩১৪৩২ তম।টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, তিনি পলিমারস বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ২০৪৯ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ১৯৩৭৬৯ তম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও গবেষক পার্থ কুমার বিশ্বাস, তিনি মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার কেমিস্ট্রি বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ১৪০৪তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ২৮১০০৩ তম। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. তানভির আহমেদ, তিনি অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ৭৫০৯ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ৩৯৬৪৫৯ তম।ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আমজাদ হোসেন ড. ইন্জি, তিনি অপটোইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড ফোটোনিক্স বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ২৩২৯ তম এবং সারা বিশ্বে গবেষকদের মধ্যে ৬৫৪৮০৯তম অবস্থানে আছেন।
উল্লেখ্য তালিকায় বাংলাদেশের প্রথমে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ অবস্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সপ্তম অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), অষ্টম অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নবম অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, দশম অবস্থানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।