বিশেষ প্রতিবেদক : শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশন পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর শাখা। প্রতিষ্ঠানের ২য় প্রান্তিক পরীক্ষায় যশোর শাখা থেকে ৬৯ জন শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান লাভ করেছে। মঙ্গলবার (২২ শে সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে এ সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ২য় প্রান্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শাখার ৬৯ জন শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করে। শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর সারাফাত হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ২য় প্রান্তিক পরীক্ষায় ৬৯ শিক্ষার্থীর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করানোই আমাদের উদ্দেশ্য নয়; তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
নির্বাহী সচিব গাউসুল আজম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্র, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। ৬৯ শিক্ষার্থীর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক অর্জন।
অভিভাবক হাবিবুর রহমান বিপ্লব বলেন, সন্তানের পড়াশোনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন। এতে অভিভাবকরাও সন্তানের পড়াশোনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিক ও শৃঙ্খলাবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আমাদের আস্থা আরও বেড়েছে। ৬৯ শিক্ষার্থীর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
অপর অভিভাবক হুমায়ুন কবির বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি আদব-কায়দা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২য় প্রান্তিক পরীক্ষায় এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক পরিশ্রমের প্রমাণ। আমরা এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা কামনা করি।
প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (অ্যাডমিন) মোস্তফা কামাল, পরিচালক (ফাইন্যান্স) রেজওয়ান হোসেন, পরিচালক আজিজুর রহমান মশিউর, হাসানুজ্জামানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
৬৯ শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।