মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন;বিশেষ প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মিথ্যা অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ সহ পুনরায় মিথ্যা মামলায় ফাসানোর সংকায় উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল(৪০) এর বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন একই গ্রামের জগদীশ মন্ডল(২৫), প্রদিপ মন্ডল(২২), মিলন মন্ডল(২৩) ও গৌর মণ্ডলের স্ত্রী সবিতা রানী(৫০), মৃত মনোরঞ্জন রপ্তানের স্ত্রী চারু রানী(৫৫)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জগদীশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল এবং আমরা উভয়ই প্রতিবেশী, ইতিপূর্বে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আমাদের নামে ২০২৫ সালে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। যার তদন্ত রিপোর্ট শ্যামনগর থানা থেকে বিজ্ঞ আদলতে প্রেরন করা হয়েছে। সে রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা মেলেনি মর্মে উল্লেখিত হয়। সে মামলাটি নিস্পত্তির পথে এমতাবস্থায় জগদীশ চন্দ্র মন্ডল পুনরায় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার পাইতারা করতেছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ২০ও২১ তারিখে "শ্যামনগরে পুর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের পাওয়ার ট্রিলার পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ" শিরোনামে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যা সম্পুর্ণ মিথ্যা। প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয় জগদীশ মন্ডল(২২), জয়দেব মন্ডল(২০), প্রদিপ মন্ডল(২৪), মিলন মন্ডল(২৩)সহ অজ্ঞতনামা দুই তিন জনের বিরুদ্ধে বিলের পুকুরে ফেলে দেওয়ার। এই ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া জয়দেব মন্ডল ঢাকাতে চাকুরীরত আছে, বাড়িতে এলাকায় ছিলো না। প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল নতুন করে আমাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাইতারা চালাচ্ছে।
ঢাকায় চাকরিরত জয়দেব মন্ডলের মাথা সবিতা রানী(৫০) বলেন, প্রকাশদের সাথে আমাদের বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘ 15-20 বছর যাবত বিবাদ চলছে, তারা আমাদের জায়গা জবরদখল করে রেখেছে। সেই শত্রু তার জের ধরে আমার ছেলে জয়দেবের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলো, যার তদন্ত রিপোর্টে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সে পুনরায় ঢাকায় চাকরিরত আমার ছেলের নামে মামলা দেওয়ার পায়তারা করছে।
প্রদিপ মন্ডল বলেন, আমার কার সাথে প্রদীপের বসত দুইটা নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিন যাবত যে কারণে ইতিপূর্বে সে আমার নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল যা থানা পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পুনরায় আবার আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার লক্ষ্যে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
খুলনায় অবস্থানরত দেবব্রত রপ্তানের মাতা চারুরানী বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে অভাবের তাড়লায় ছেলে দেবব্রত প্রকাশ মন্ডলের ডেকোরেশনের ব্যাবসায় কাজে ৭-৮ মাস কাজ করলেও ঠিকমতো টাকা না দেওয়ায় কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সেই ক্ষোভে আমার ছেলের নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেয়, সে আবারো মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
মিলন মন্ডল বলেন ঠাকুর দাদা প্রকাশ মন্ডলের পাওয়ার টিলার আমি জন চালিয়েছি বেতনের টাকা পরে দিচ্ছি দিচ্ছি বলে দুই বছর যাবত কোন টাকা দেয়নি যে কারণে আমি তার গাড়ি চালানো বন্ধ করি সে ক্ষোভে আমার নামে মিথ্যা ধর্ষনের মামলা দিয়েছিল। আবারও মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাইতারা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, পাওয়ার টিলার সংক্রান্ত প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সাথে সাথে প্রতারক মামলাবাজ প্রদীপ চন্দ্র মন্ডলের আর কোনো মিথ্যা মামলার শিকার যেনো না হতে হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।