এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকাবল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু'র আবেগঘন মুহুর্তের কয়েকটি ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে এ ছবিগুলো শেয়ার করতে দেখা গেছে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অংগসংগঠনের নেতাকর্মী এমনকি আম জনতা পর্যন্ত। জানা গেছে, এ সমস্ত ছবি চলতি মাসের ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের গলা জড়িয়ে কাঁদছেন। আর শহীদ ইকবাল হোসেন এক দৃষ্টিতে সামনের দিয়ে চেয়ে আছে অশ্রুসিক্ত নয়নে। চোখের ভাষায় হতাশার ছাপ ও আবেগ দুই জনেরই নিয়ন্ত্রণ সীমা অতিক্রম করেছে। নেতাকর্মীদের ফেইসবুক আইডিতে উল্লেখ করা হচ্ছে " এ দুজন ব্যাক্তি মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির অভিভাবক, তারা চাইলে খুলতে পারে দলীয় গ্রুপিং জট। দেশের চলমান রাষ্ট্র পরিচালনা কারী দলের জন্য এ উপজেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়া বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে ছবির এই গুরু শিষ্যকে রাজনৈতিক মাঠে থাকার দাবী জানিয়েছে অনেকে।
বিগত সরকারের আমলে কোনঠাসা থেকেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশের আয়োজন হলেও মণিরামপুরে বিএনপি আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান করেছে। অদৃশ্য কোন কারনে উপজেলা বিএনপির গ্রুপিংটা প্রখর আকার ধারন করে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে।যাওয়া পর হতে। যার বহিপ্রকাশ ঘঠে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ঘোষনার পর হতে।
তথ্য আছে, গত নির্বাচনে প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব প্রথম পর্যায়ে এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের নাম ঘোষণা করলেও তার কয়েক দিনের মাথায় জোট শরীকের জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের সংরক্ষণে মাওঃ রশীদ আহমেদের নাম ঘোষনা করে। সংসদ নির্বাচন দলীয় শৃঙ্খলা ভেংগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দল হতে বহিষ্কার হন এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন। সে সময় বহিষ্কার হওয়া নেতার সাথে সম্পৃক্ততা কারনে যশোর জেলা কমিটি হতে উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাদের বহিষ্কার করে কমিটি বিলপ্ত পর্যন্ত হয়। প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের পর হতে বিএনপির রাজনীতিতে এ উপজেলাতে ভাটা পড়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর এক ফ্রেমে গুরু এবং শিষ্য। নেতা কর্মীদের দাবী দলীয় স্বার্থে এ দুই নেতাকে এভাবেই থেকে সরকারের স্থানীয় সেবা জনগনকে বুঝিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । উপজেলা বিএনপির বিগত দিনের ইতিহাস বলছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭টি বছর কোনঠাসা বিএনপিকে নিজের সন্তানের মতো বুকে আগলে রেখে অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু। কথিত আছে সারাদেশে যখন আ'লীগ সরকারের দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনির অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্ব স্ব কার্যালয়ে আসতে পারতো না,সেখানে ইকবাল-মিন্টুর নেতৃত্বে বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা হতো মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির নারকেল হাটা কার্যালয়।
সেই দূর্দিনের একতাবদ্ধ বিএনপিকে ফিরে পেতে শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করা বহিস্কৃত সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন'কে স্বপদে বহালের জোর দাবী নেতাকর্মীদের। দেশের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে সম অপরাধে বহিষ্কৃত নেতারা দলে।ফেরাতে সে আশায় আশাবাদী মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি সমার্থিত জনগন।
এদিকে চলতি মাসের প্রথমে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক সভাপতির মালায়েশিয়া হতে ফেরা, তার সাথে সাধারন সম্পাদকের চলতি মাসের ২২ তারিখে শীরের বড় ধরনের অপারেশনের দোয়া প্রার্থনার অনুভুতির প্রকাশে নেতাকর্মীদের এমন ঐক্যবদ্ধতা গ্রুপিং রাজনীতিকে বিলুপ্ত করে স্বতঃস্ফূর্ততা একক আধিপত্যর প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন উপজেলা ও জেলার প্রবীন কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তাহলে কি মণিরামপুরে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে চলেছে,নাকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভেদাভেদ ভুলে একক নেতৃত্বে উদ্যামের সুবাতাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল ৭টায় অপারেশন করাবেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু। এ উপলক্ষে ১৯শে আগস্ট উপজেলা ও পৌর বিএনপি দোয়া মাহফিল করেছে। মাসের প্রথম দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির মালায়েশিয়া গমনের পূর্বে অপর একটি ফেইসবুক পোস্টে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু অসুস্থ্য সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন'কে রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু উল্লেখ করে সুস্থতা কামনা করেন।