মালিকুজ্জামান কাকা:যশোরের চৌগাছা উপজেলা মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী ইফতিয়ার হোসেন বদলি হয়েছেন। হাসপাতালের প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা কারনে তাকে বদলী করা হয়েছে।
বিগত ১৭ বছরের মধ্যে চৌগাছা মডেল হাসপাতালে এমন কঠোরতা দেখা যায়নি। হাসপাতালের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চৌগাছা বাসী ধন্য বাদ জানিয়েছেন। এর আগে এমন দেখে গেছে, এই হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে নিয়োগ থাকলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এখানে অফিসও করতেন না। স্বাস্থ্য কর্মী ইফতিয়ার হোসেনের বদলীর পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তা কর্মচারী, নার্সসহ সকলে নড়েচড়ে বসেছেন। বিগত দিনে ক্লিনিক বা চেম্বার নির্ভরশীল ও দায়িত্বে অব হেলায় থাকা সেই সকল চিকিৎসকদের মধ্যে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবার প্রতি বেশ আন্তরিকতা লক্ষ্য করা গেছে। মা ও প্রসূতি (ডেলিভারী)জরুরী বিভাগটি এখন সার্বক্ষনিক খোলা থাকছে,১০০ শয্যা বিভাগ চালু, হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগটি আধুনিকরণ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে দন্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
সোমবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ফাতেমা খাতুন, আঃ মাজিদ, মাজেদা খাতুন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বেশ ভাল হয়েছে। অথচ এর আগে আমরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ক্লিনিক বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহন করতাম।
গত দুই মাসে হাসপাতালের মাত্র ৫/৬ জন চিকিৎসক বেড়ে এখন ৩০ জন চিকিৎসকে দাঁড়িয়েছে। ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, বেসরকারী বাড়তি ৫০ জনবল (স্বেচ্ছাসেবী) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই না হাসপাতালের উন্নয়নে প্রায় কোটি টাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ছাড় পেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। গত কয়েক মাসে হাসপাতালের চিত্রbযেন বদলে গেছে। এ হাসপাতাসহ দেশের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যশোর২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের এমপি ডাঃ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ দিন রাত পরিশ্রম করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে চৌগাছা মডেল হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে বা বদলাতে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মশালা, জাতীয় প্রেস ক্লাবে কর্মশালায় চৌগাছা হাসপাতাল ও দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে ও সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিকতায় চৌগাছা হাসপাতালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সহ অনেকেই পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষনিক কঠোর তদারকি করছেন।এমপি ডাঃ ফরিদের এই মহতি উদ্যোগকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিরা নাজমুল মুন্নী,জন প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিএনপি ও জামায়াতসহ রাজনৈতিক নেতারা , সমাজ সেবকসহ সকল স্তরের মানুষ চৌগাছা হাসপাতালের মডেল কার্যক্রম ধরে রাখতে এগিয়ে এসেছেন। স্বাগত জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে গত ৬ মাস আগেও চৌগাছা মডেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভঙ্গুর ছিল। মাত্র ৫/৬ জন চিকিৎসকই চিকিৎসা সেবা দিতেন।চিকিৎসক,নার্সসহ অধিকাংশ পদ খালি ছিল। যে কারনে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভােগান্তির শেষ ছিল না। চিকিৎসকরা হাসপাতালে রোগী না দেখে বাড়তি আয় করতে ক্লিনিকে রোগী দেখার প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ আহসানুল মিজান রুমী জানান, আমাদের হাসপাতালের মডেল কার্যক্রম ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।