মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ নিষিদ্ধঘোষিত চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এমন নেট-পাটা অপসারনে বৃহস্পতিবার (৩০শে জুলাই) দিনভর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন,থানা প্রশাসন,উপজেলা মৎস অফিসার ও গনমাধ্যম কর্মীদের একটি টিম । উপজেলা মৎস্য অফিস এবং মণিরামপুর থানার যৌসার্বিক সহযোগিতায় দিনভর পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ মাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন।
তথ্য মোতাবেক,স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলার ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ৭০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও নেটপাটাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধক অপসারণ ও বিনষ্ট করা হয়।
অভিযসন চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকাল বেলা মণিরামপুর বাজারের সুতাপট্টিস্থ দুইটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃপক্ষ প্রথমে নিষিদ্ধঘোষিত জাল সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী পানের দোকান ও গোডাউনে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করে এক্সিকিউটিভ মাজিস্ট্রেট। উদ্ধারকৃত চায়না দুয়ারি জালের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২১০০ (দুই হাজার একশত) মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ২,৩৮,০০০ (দুই লাখ আটত্রিশ হাজার) টাকা। উদ্ধারকৃত কারেন্ট জালের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১০,০০০ মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ২,১৩,০০০ টাকা (দুই লক্ষ তের হাজার) টাকা। পরবর্তীতে দোকান দুইটির মালিকদের প্রত্যেককে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর ৫(১) ধারায় ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা করে মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন মেসার্স সন্দীপ ট্রেডার্স এর প্রোপাইটর সন্দীপ কুণ্ডু (৩৭) এবং মেসার্স মুসলিম স্টোর সুতোর দোকান,-এর প্রোপাইটর আবুল হাসান (৬২)। সর্বশেষ জব্দকৃত জাল উপজেলা পরিষদের ফাঁকা স্থানে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে চলতি তথ্য নিশ্চিত করেছে সহকারি কমিশনার ভূমির বিশেষ মিডিয়া সেল।
অভিযানে আরো ছিলেন,মণিরামপুর উপজেলা মৎস অফিসার মোঃ সেলিম রেজা, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের এস এম তাজাম্মুল,নয়ন রায়,তৌহিদুল ইসলাম প্রমূখ। এ ছাড়াও অভিযানে মণিরামপুর থানা পুলিশের সদস্যরা বিশেষ ভূমিকা রাখে। জনস্বার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে বলপ জানিয়েছে মণিরামপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ মাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন।