নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হিসেবে যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শনিবার(২৫ জুলাই) বিকাল তিনটা থেকে রাত পর্যন্ত। যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য বিজ্ঞানমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর মডেল ও গবেষণাধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেন।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মো. আব্দুল মতিন, উপ-সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) শেখ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামাল আহমেদ । স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সারাফাত হোসেন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ফারুখে আযম মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যেভাবে বিজ্ঞানমেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; হাতে-কলমে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ফর ইনোভেশন (রেইন) এর প্রতিষ্ঠাতা সেখ নাঈম হাসান মুন বলেন, এ ধরনের আয়োজন সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তিনি এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান।
অপর অভিভাবিকা উম্মে সালমা বলেন, শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশে এ ধরনের বিজ্ঞানমেলা অত্যন্ত কার্যকর। তিনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জি এম আবু ফয়সাল বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে আরও যুগোপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজ্ঞানমেলাটি দিনব্যাপী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজনের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।