মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন;বিশেষ প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে ৭৫ নং নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে বিদ্যালয়টি প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শ্যামনগর উপজেলার মোট ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১০৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
এর মধ্যে ৭৫ নং নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৯ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে উপজেলায় সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৩ নং হায়বাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ১৭ নং নূরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো— দীপান্বিতা পাল দিয়া, পূজা নন্দী, মাশরিকা বিলকিস, ফাওজিয়া নূর তোয়া, জাকিয়া সুলতানা, আরাধ্যা মনি মণ্ডল, রিয়াদ হাসান, ওয়াসিক তাহসান এবং অভ্রজিত হালদার।
সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো— সামিউল আলম, আশফাক উজ জামান, নূহা মণি, সারিকা সানজানা, লাকিয়া রহমান লিবা এবং দীপা বিশ্বাস।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, “শ্যামনগর উপজেলায় এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১০৫ জন বৃত্তি লাভ করেছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ৭৫ নং নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আগামী দিনেও উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও ভালো ফলাফল করবে বলে আশা করছি।”
বিদ্যালয়ের এ গৌরবময় সাফল্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, সকলের সহযোগিতা ও দোয়ায় ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিক সাফল্য বজায় থাকবে এবং বিদ্যালয়টি আরও উন্নত ফলাফল অর্জন করবে।