বিশেষ প্রতিনিধি:যশোর সদরের তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকার নিরীহ যুবকদের পকেটে মাদক রেখে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের আটকের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে মুক্তিপণ আদায় করছেন—যা যশোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাদকবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। এলাকাবাসী বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর থেকে এএসআই মুকুল হোসেন স্থানীয়দের হয়রানি করছেন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীরাও অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি তাঁর দুই সহযোগী—ঘুরুলিয়ার অনলাইন জুয়াড়ি সোহেল (মৃত মোসলেমের ছেলে) ও শেখহাটির মাদক ব্যবসায়ী খোকনের ছেলে ব্যাড রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে নিরীহ যুবকদের আটক করেন, তাদের পকেটে গাঁজা বা ইয়াবা রাখেন এবং মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন।
গত ২৭–২৯ জুন দুপুরে ঘুরুলিয়া বাজারের প্রাইমারি স্কুলের পাশে মামুনের কেরাম বোর্ডের দোকান থেকে ছোট গোপালপুরের সজীব (২৫) নামে এক যুবককে ৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করে তাঁর কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
· একই দিন ঘুরুলিয়া প্রাইমারি স্কুলের পাশে হাসর আলী মার্কেটের মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ রেশাদ (২৭)-কে আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়ার পথে তালবাড়িয়া গ্যারেজ মোড়ে পৌঁছে সাড়ে সাত হাজার টাকা নিয়ে বেলা ৩টায় তাকে ছেড়ে দেন এসআই মুকুল।
· চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাত ৯টায় গোপালপুরের আলমগীরকে (মৃত আকবর চৌধুরীর ছেলে) ৯ পিস ইয়াবা ও কয়েক পুরিয়া গাঁজাসহ আটক করে ২৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়।
· একই সপ্তাহে ছোট গোপালপুরের বাদশাকে ৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করে ১২ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
· গোপালপুর-সুলতানপুরের মধ্যবর্তী স্থান থেকে এক মাদক কারবারিকে আটক করে সাড়ে সাত হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যশোর কোতোয়ালি থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ফোন দিলেও এএস আই মুকুল তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ।
· গত ৯ জুলাই শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ের রনির চায়ের দোকান থেকে সোহেল ও রাসেলের তথ্যের ভিত্তিতে আলতাফ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে সাগর নামে এক মাদক কারবারিকে ৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়; টাকা লেনদেন করেন দোকানদার রনি।
এভাবে তালবাড়িয়া, নোয়াপাড়া, শালিয়াট, মালিয়াট, ছোট-বড় গোপালপুর, ভুরুলিয়া, আড়পাড়া, শেখহাটি, বাহাদুরপুর, পাঁচবাড়িয়া, নওদাগা, বিরামপুরসহ ২২ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে এই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যশোরের আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের ঘোষণা থাকলেও এ এস আই মুকুল হোসেন তার উল্টো কাজ করছেন। তিনি ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ তানিম হোসেনের নির্দেশও মানেন না; ইনচার্জ যেখানে এলাকাবাসীকে নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও অভিযান চালান, সেখানে এ এসআই মুকুল হোসেন সিভিল পোশাকে একাই এসব চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। তারা তাঁর দ্রুত অপসারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ তানিম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএসআই মুকুল হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুম খান সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই; পুলিশ সদস্যরা এমন অপকর্ম করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।