এস এম তাজাম্মুলঃ চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০২৬ এর আসর! ম্যাক্সিকো-কানাডা-আমেরিকার যৌথ আয়োজনে চলতি এ আসরের ইতিমধ্যে ১ম পর্বের খেলা শেষে ৩২টি দেশ এখন নক-আউটে দাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে প্রান পন চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের কোন আসরে এখনো সুযোগ না হলেও উৎসাহ উদ্দীপনা আর পছন্দের খেলোয়াড় ও দলকে সমার্থন জানিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীরা বিভিন্ন সব আয়োজনে ব্যাস্ত।
গায়ের জার্সি,কারুকার্য, ভিডিও তৈরি ও প্রিয় দলের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ইত্যাদি। খেলা প্রেমিদের এ সমস্ত উৎসাহ উদ্দীপনায় অর্থ ব্যায়ের মধ্য উল্লেখযোগ্য সমর্থিত দলের জাতীয় পতাকার আকার,পতাকার রং মিলিয়ে কারুকার্য,হঠাৎ আয়োজনের খাওয়া দাওয়া,এমনকি তাশা-ফাসাদের শোডাউনে দেশব্যাপী বেশ কয়েকটি বিশৃঙ্খলার খবরও আমরা দেখতে পেয়েছি।
উৎসাহ উদ্দীপনার মাত্রায় সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে ফেইসবুক ওয়ালে রিতীমতো ট্রলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে বাংলাদেশ হাতে গোনা কয়েকটি দলের ভক্ত-সমর্থকদের দেখা যায় পতাকা উত্তোলনের প্রতিযোগিতা। ৩/৪টি দেশের মধ্য ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান ব্রাজিল ও একই উপ মহাদেশের আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ভক্ত-সমর্থকদের স্ব স্ব পতাকা স্ব গর্ভে উত্তলন।
চলতি এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকদের সমর্থিত উল্লাস আর উন্মাদনার ফুলঝুড়িতে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে ভাটা পড়তে দেখা গেছে। মণিরামপুর উপজেলা ব্যাপী চলমান অনুসন্ধানের তথ্য মোতাবেক,সড়ক ও হাটবাজার,ব্যাবসা প্রতিষঠান এমনকি বাড়ির ছাঁদে উড়তে দেখা গেছে সবুজের মাঝে হলুদ বৃত্ত(ব্রাজিল) ও সাদা-আকাশি রংয়ের (আর্জেন্টিনা) দলের পতাকা উত্তোলনের বাহার। সর্বোমোট প্রাপ্ত ৩শ অধিক পতাকার স্থলে ২০-৩০টি পতাকার সাথে সবুজের বুকে লালবৃত্ত(বাংলাদেশের) পতাকা শোভা বর্ধন করেছে। সে মোতাবেক শতকরা ৮০% (শতাংশ) ফুটবল দলের পতাকার সাথে উড়তে দেখা যায়নি লাল সবুজের পতাকা। যার বেশিরভাগ মণিরামপুর পৌরশহরে এখনো দৃশ্যমান। কুটনৈতিক মহলের দাবী, দেশের প্রতি একজন সচেতন নাগরিকের ভালোবাসার সংকট,স্বাধীনতার অবমাননা ও জাতীয় পতাকার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল বলে মনে করেছেন সচেতন মহলের ব্যাক্তিবর্গ। আবার অনেকে এটাকে ভুল স্বীকার করে করেছেন মাথানত কিছু উদগাভীন সমার্থকেরা জেনেও না জানার ছলে এড়িয়ে গিয়ে করেছেন দেশদ্রোহীর সমান অপরাধ।
টানা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ এবং বাধ্যবাধকতায় নিয়মনীতির কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে দেশের প্রতি অগভীর মমতাবোধের জোয়ারে ভাঁটা পড়েছে। যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে লালন করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ব করতে পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে সংবিধান বাস্তবায়নে সংসদে গেজেট আকারে আইন পাশ করছে সরকার। সেখানে দেশের একটি বৃহৎ অংশের ক্রীড়া প্রেমিরা বিবেকচ্যুত হয়ে দেশের সূর্য সন্তানদের আত্বত্যাগ ও রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ভুলে অসুস্থ্য সমাজ কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করে চলছে। বাস্তবিক চিত্র এতটাই স্পর্শকাতর যে, চলতি এ প্রতিবেদকের সাথে মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে অংশগ্রহন করা বীর মুক্তিযোদ্ধা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে জানালেন আজ দেশের প্রতি মানুষের মমতাবোধ এখন আর নাই। আমরা যে পতাকা বিশ্ব মানচিত্রে সমুন্নত রাখতে জীবন বিলিয়ে দিয়েছি সে পতাকার সম্মান এ প্রজন্ম বিলিন করে দিচ্ছে, যা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কোন অংশে কম নই। খেলা প্রেমীদের প্রতি আহবান রেখে প্রিয় টিমের পতাকার সাথে আকারে ছোট হলেও লাল সবুজের পতাকা উত্তোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন এ মুক্তিযোদ্ধা।
উল্লেখিত রাষ্ট্রীয় আইন অবমাননার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দেখা উচিৎ, পাশাপাশি আইন প্রয়োগের যাথার্থ মুল্য দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মণিরামপুর উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ।