শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের এক সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবার শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সাধারণত হাওর-বিল বা জলাভূমির এই বুনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পোষ মানিয়ে পালন করায় প্রতিদিন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।
শখ থেকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ওই মৎস্য ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি এবং ভালোবাসার কারণে অল্প দিনেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মেনে যায়। বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারের পাশে তার নিজস্ব খামার ও মৎস্য ঘেরের আশেপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় এবং মালিকের ডাক শুনলেই কাছে ছুটে আসে।
কালিম পাখির বৈশিষ্ট্য ও খাদ্যাভ্যাস
নীল ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে চোখ ধাঁধানো রূপের এই কালিম পাখিটির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। খামারি জানান, এই পাখি লালন-পালন করা বেশ সহজ। এরা মূলত জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি বাজারে কিনতে পাওয়া ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট চিংড়ি বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই অত্যন্ত কম এবং দেশীয় আবহাওয়াতে এরা দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
দর্শনার্থী ও প্রতিবেশীদের কৌতূহল
চুকনগর বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় খুলনার বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। চুকনগরের বুকে উন্মুক্ত অবস্থায় এমন সুন্দর পাখি ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে আবার এই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
আশাবাদী খামারি উদ্যোক্তা মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, কেবল শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন,"কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। এদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এরা চমৎকার পোষ মানে। আমার এখানে পাখি দুটি সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এরা ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।"
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির বলেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ক্ষুণ্ণ না করে যদি এই ধরনের বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার তৈরি করা যায়, তবে তা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি সৌখিন পাখিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।