এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ কখনো সরকারী দপ্তর,কখনো বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা নামীদামি কম্পানি আবার কখনো সচিবলায়ের কর্মচারি পদে নিয়োগের সূবর্ণ সুযোগ! উচ্চ বেতনে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনার করে একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গোপিকান্তপুর গ্রামের মৃত জোনাব আলী বিশ্বাস ওরফে ঝন্টু বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে এককালীন মোটা অর্থ নিয়েই সে ক্ষ্যান্ত হননি রিতিমতো ভুয়া নিয়োগ পত্রে করেছেন একাধিক জাল স্বাক্ষর। যার ভুক্তভোগী অসংখ্য পরিবার এখন পথে বসেছে। অভিযুক্ত আতিয়ারের কাছে মোটা অংকের অর্থ দিতে কেউ কেউ লোন করেছে,কেউ জমি বিক্রি করেছে,কেউ আবার ভবিষ্যতে সুখের আশায় ঘরের স্বর্ণ বন্ধক রেখে প্রতারক আতিয়ারের অর্থের যোগান দিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েক জনের গুরুতর অভিযোগ আছে, প্রতারনা করার কৌশলে ধরা খেয়ে নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের চেক জালিয়াতি মামলায় আতিয়ারকে আসামী করে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়াতে ভুক্তভোগীদের প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলেছে প্রতারক আতিয়ার রহমান।
চলতি অনুসন্ধাধানী প্রতিবেদকের কাছে তথ্য আছে, কোশবপুরের বেলকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম তার ভাইপো ইমরান হোসেনের চাকুরী বাবদ ১০ লাখ,দয়াল মনোহরপুর ৪ লাখ,ডুমুরিয়ার তীর্থঙ্কর ৫ লাখ, কেশবপুরের ইসরাফিল ১ লাখ ৫০ হাজার, কেশবপুরের ইমন হোসেনর ৩ লাখ ৫০ হাজার ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তির মাধমে কয়েকজন চাকুরী প্রার্থীর( মিডিয়া) দেওয়া ৩০ লাখ টাকা সহ আরো নাম না জানা অনেকের সব মিলিয়ে আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মুখোশধারী প্রতারক আতিয়ার রহমান।
এদিকে হাতিয়ে নেওয়া টাকার জন্য আদালতে চেকের মামলার বাদী কেশবপুরের বেলোকাটি সাইফুল ইসলাম গত ২২/০৬/২৬ তারিখে আদালতে বাদী হয়ে আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন। মুঠোফোনে সাইফুল ইসলাম জানা,আমার মতো বহু পরিবার নিঃস্ব করে দিয়েছে এই প্রতারক আতিয়ার, ভুয়া আইডি কার্ড ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে এগুলো করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আতিয়ারের একটি চেক দীর্ঘ আট মাস ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাইফুল ইসলামের ভাই আত্মীয় কে অফিসে ডিউটি করান পরিশেষে যখন জানতে পারেন ভুয়া নিয়োগপত্র তখন তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয় অবশেষে চেকটি ডিজ-অনার করে সাইফুল ইসলাম আদালতে আতিয়ারের নামে মামলা করেছেন বলে জানান এ ভুক্তভোগী।
ক্ষতিগ্রস্থ কয়েক জনের নিকটতম ব্যক্তিদের সাথে কথা হলে তারা দাবী করেন,এত বড় অপরাধ করেও এখনো কিভাবে আতিয়ার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়! তার দ্বারা কয়েকটি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে,সংসার ভেংগেছে,এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।
অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত খবরা-খবর জানতে অভিযুক্ত মণিরামপুর উপজেলার গোপিকান্তপুর মৃত জোনাব আলী বিশ্বাসের ছেলে প্রাতরক আতিয়ার রহমানের খোজে বাড়িতে গেলে সে ঢাকায় কি কাজে গেছেন বলে জানান তার পরিবারের লোকজন। খোজ নিতে আতিয়ারের ব্যবহারিক নং ০১৯৯২৩৮৩৩৪৮ মোবাইলে কল করলে তিনি ফোন কলের উত্তর দেননি।
চলমান,,,,,