নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোর সদর উপজেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন পূর্ব চাঁদপাড়া গ্রামে লজিং থাকা এক ছাত্রের প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মকবুল হোসেন (৬৪) নামের এক বৃদ্ধকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে বাড়ির সামনের ইটের সলিং রাস্তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আহতের ছেলে মোঃ রনি (৩৭) বাদী হয়ে প্রতিবেশী মেহেদী হাসান মহব্বত (৪৫), মোঃ জাহিদ (৪৬), মামুন (৪০) সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে বিবাদী করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামের মোঃ সিয়াম হোসেন (১৫) নামের এক কিশোর পূর্ব চাঁদপাড়া গ্রামের রনিদের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করত। লজিং থাকা অবস্থায় বিবাদী মেহেদী হাসান মহব্বতের নাবালিকা মেয়ে সাফা (১৪) সিয়ামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২১ জুন সিয়ামের পরিবার তাকে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপরও বিবাদীদের প্ররোচনায় সাফা সিয়ামকে উত্যক্ত করতে থাকলে রনির পরিবার বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে বিবাদীদের সাথে বসার চেষ্টা করে। এতে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো রনির পরিবারের ওপর দোষারোপ করতে থাকে এবং সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে বিবাদী জাহিদ মোবাইল ফোনে রনিকে হুমকিও প্রদান করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকার সময় রনির পিতা মকবুল হোসেন স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামী মেহেদী হাসান মহব্বত ও মনির হোসেন লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তার গতি রোধ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে মকবুল হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীদ্বয় তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
বৃদ্ধের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মকবুল হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।