এস এম তাজাম্মুল: পারবারিক কলহের কারনে বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় মণিরামপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড মোহনপুরে নিজের বোনের নির্মানাধীন ভবনের একটি কক্ষ থেকে শামীমা আক্তার তাসলিমা ডাকনাম ময়না (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘঠনায় সন্দেহজনকভাবে তার স্বামী ও সৎ বাবকে হেফাজতে নেই পুলিশ। স্বামী হেলাল উদ্দীনের দায় স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাশের একটি ডোবা হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহারিত ময়নার ওড়না ও পরে মৃত নারীর ব্যবহারিত মোবাইল উদ্ধার করে ১৮ই জুন ৩০২/৩৪(পিসি) ধারায় মামলা রেকর্ড করে যার মামলা নং ২৩ বলে চলতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর থানা এসআই মনির হোসেন। এর আগে,বৃহস্পতিবার (১৮ই জুন) ভোর ৫ঃ৩০ মিঃ এর দিকে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃতদেহ উদ্ধারে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে,ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ। মৃত ময়না মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মৃত মোঃ ইব্রাহীম গাজী ছোট মেয়ে ও কুমারঘাটা মনোহরপুরের কাদের শেখের ছেলে হেলাল উদ্দীনের (৪০) ২য় স্ত্রী বলে জানা যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সংসারের কলহের কারনে স্বামীর বাড়ি(মনোহরপুর) হতে বাবার বাড়িতে এসেছিলো ময়না। আজ(১৮ই জুন) তার শ্বশুর বাড়ি হতে লোকজন এসে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। এর আগেও এরকম কয়োকবার শ্বশুর বাড়ি হতে চলে এসেছিলো।
ময়নার মা জানান, রাতে একসাথে ঘুমিয়ে ছিলো। ভোরবেলা নামাজ পড়তে উঠে দেখি ময়না নাই। অনেক খোজাখুজির পর বাড়ি সংলগ্ন ময়নার মেঝো বোনের নির্মানাধীন ভবনে পড়ে থাকতে দেখি,আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিলো।
স্থানীয়রা জানান, মেয়েটি খুব নম্র ও ভদ্র ছিলো।কারো কোন কথায় উত্তর দিতো না,প্রায়ই এরকম সে চলে আসতো আবার তার স্বামী এসে নিয়ে যে যেতো! এ ঘঠনার পর ময়নার স্বামী হেলাল উদ্দীনের ব্যবহারিত মোবাইল নং এ বার বার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপায় না পেয়ে অন্য মাধ্যমে হেলালের বাড়িতে খবরটি পৌঁছে দিলেও কোন কর্নপাত তারা করেনি। মৃত ময়নার মায়ের দাবী, প্রাইয় তার শ্বশুর বাড়িতে ঝামেলা হতো,আর এখানে চলে আসতো। তার জামাই হেলাল উদ্দীন তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক,ময়নার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো ও মুখ, কপালে ক্ষতের চিহৃ ছিলো ও তাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শাসরোধ করে হতা করে তারই স্বামী। এ বিষয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবু সাঈদ জানিয়েছেন যে,ময়নার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সন্দেহ ভাজন হিসাবে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদে ক্লু পেয়ে পার্শ্ববর্তী ডোবা হতে হত্যায় ব্যবহারিত ময়নার ওড়না উদ্ধার ও আসামী তারই স্বামী হেলাল উদ্দীনকে আমরা গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তি তে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রেরন করেছি।
বৃহঃবার ভোরবেলার এ ক্লু লেস হত্যাকান্ডের মূল হোতা ময়নার স্বামীকে গ্রেফতার ও আইনি ভূমিকায় মণিরামপুর থানা পুলিশের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশের প্রতি।