মোহন আলী কুষ্টিয়া: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ কে হৃদয়ে ধারন করে পারিবারিকভাবে বেড়ে ওঠা বিগত ২০০৫ সালে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এস. এস. আল হুসাইন (সোহাগ)-এর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর তিনি ক্রমান্বয়ে ভেড়ামারা কলেজ ছাত্রদলের ইয়ার কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ভেড়ামারা পৌর ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়ার প্রতিটি রাজপথে তিনি অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অসংখ্য মামলার (জিআর মামলা) শিকার হয়ে ২০১৪ সালে ৪৫ দিন, ২০১৯ সালে ১৫ দিন এবং ২০২৪ সালে ১০৭ দিনসহ মোট দীর্ঘ সময় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।
২০২২ সালের ঐতিহাসিক ‘কালিমা মোচন’ ঘটনা সোহাগের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সাহসিকতার পরিচয় মেলে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। ২০২২ সালের ১১ই এপ্রিল ভেড়ামারা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ স্তম্ভে ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ এর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী/জাসদের নেতাকর্মীরা কালিমা লেপন করে। এই চরম ধৃষ্টতা ও অপমানের প্রতিবাদে সে সময় প্রানভয়ে দলের কাউকে দেখা যায় নি। কিন্তু জীবনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় ও জেলা নেতাদের সাথে নিয়ে ১৮ই এপ্রিল ২০২২ তারিখে সেই লেপন করা কালিমা নিজ হাতে মুছে পরিষ্কার (কালিমা মোচন) করেন এস. এস. আল হুসাইন সোহাগ। এই ঘটনার পর তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চরম কোপানলে পড়েন এবং তাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। সমাজসেবা ও করোনাকালীন মানবিক ভূমিকা কেবল রাজনীতিতেই নয়, এলাকায় একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে সোহাগের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালীন বৈশ্বিক মহামারির সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দী ও অসহায় হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ভুক্তভোগী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে করোনা সংক্রমণের শুরুতে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ পৌঁছে দেন। পবিত্র রমজান মাসে স্থানীয়ভাবে এলাকায় মাসব্যাপী অসহায় ও দুস্থ মানুষকে সেহেরী খাওয়ানোর এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হিসেবে স্থান পায়। প্রাণঘাতী হামলা ও অদম্য মনোবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে ২০২৩ সালের ২ জুলাই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তিনি গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন এবং দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে তাকে অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো বাধাই তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। গুরুতর আহত অবস্থায়, এমনকি হুইলচেয়ারে বসেও তিনি বিএনপির ডাকে ঢাকার মহাসমাবেশসহ দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই মারাত্মক আঘাতের ক্ষত এখনও তার শরীরে বিদ্যমান। শিক্ষাগত জীবনে সমাপনী উচ্চশিক্ষিত (বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন) এই তরুণ নেতা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সারথি। নিজের ক্যারিয়ার, সুখ এবং নিরাপত্তার কথা না ভেবে যিনি প্রতিনিয়ত দল ও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর মতে, এস. এস. আল হুসাইন সোহাগের মতো ত্যাগী ও মানবিক নেতাই আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও কল্যাণকামী সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। দলের তৃনমুলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা মনে করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এসএস আল হুসাইন সোহাগের মতো একজন আদর্শিক ও দলের দু:সময়ের কান্ডারীর হাতেই কেবল ভেড়ামারা বিএনপির রাজনীতি নিরাপদ এবং গতিশীলতা বয়ে আনবে।