নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: যশোরের চৌগাছা উপজেলার দুলালপুর গ্রামে কাবিননামা ও যৌতুক সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত আনিসা খাতুন দুলালপুর গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে এবং যশোর এম এম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পেটভরা গ্রামের আ. মাজিদের ছেলে মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪/০৩/২০২৬ তারিখে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আনিসার সাথে মেহেদীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কাবিন ৪ লাখ টাকা নির্ধারণসহ হাতের বালা, কানের দুল, গলার চেইন দাবি করা হয়। মেহেদীর পরিবার দাবি করছে, এতে রাজি হয়ে তারা প্রায় ১২ লাখ ৪ হাজার টাকার সোনা-গহনা, শাড়ি, কসমেটিকসহ যৌতুক দেন।
মেহেদী হাসানের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের দুই সপ্তাহ পর আনিসা পরীক্ষার কথা বলে তার দেওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। পরে তাকে আনতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান গত ২৫ মে চৌগাছা থানায় এবং ১২ মে বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি এনপিএস বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন শনিবার সকাল ১টার দিকে চৌগাছা থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মেয়ারাজ উপস্থিত ছিলেন। সালিশে আনিসা কাবিন বাবদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আছে বলে জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। তবে আনিসার বাবা আব্বাস উদ্দীন ও মা শাহানাজ পারভিন দাবি করেন, তাদের মেয়ে মেহেদীকে ডিভোর্স দিয়েছে এবং তার সাথে সংসার করবে না।
সালিশ বৈঠকে মেহেদীর পিতা আ. মাজিদ, মামা আয়ুব হোসেন, আনিসার চাচা মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এর আগেও ১২/০৪/২০২৪ তারিখে পটুয়াখালীতে রাসেল নামের এক যুবকের সাথে একই কায়দায় বিয়ে করে আনিসা কাবিন ও স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির একটি টিম দুলালপুরে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আনিসা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের মেয়ে ডিভোর্স দিয়েছে এবং সংসার করবে না। এ বিষয়ে আনিসার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌগাছা থানার ওসি জানান, মেহেদী হাসানের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।