মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন;শ্যামনগর, (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যুবদল নেতা বাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে হামলার মামলার স্বাক্ষীকে ‘পিতার সামনে পিটিয়ে সাইজ করা’র-হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চার/পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে তিনি সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে পৌরসদরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে একা পেয়ে এমন হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এঘটনার কয়েকঘন্টা আগে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যুবদল থেকে বাবলুর রহমানের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় গত ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করেছিল।
দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার প্রতিনিধি মিজানুর রহমান উপজেলার আবাদচন্ডিপুর গ্রামের মোঃ সামছুর রহমানের ছেলে। গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তিন নং স্বাক্ষী তিনি। এঘটনায় নিরাপত্তা শংকার কথা জানিয়ে মিজানুর রহমান শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরী (যার নং- ৬৯১/১২-০৬-২৬) করেছেন।
মিজানুর রহমান জানান বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ নিয়ে তিনি প্রেসক্লাবে ফিরছিলেন। এসময় প্রেসক্লাবে হামলা, লুটপাটসহ সভাপতি সামিউল আজম মনিরকে পিটিয়ে আহত করার মামলার আসামী বাবলু কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। নানা অবান্তর কথার একপর্যায়ে ‘পিতার সামনে নিয়ে পিটিয়ে সাইজ করা’ ও ‘স্বাক্ষী হওয়ার খায়েশ মিটিয়ে দেয়া’সহ বিভিন্ন হুমকি দেন। এসময় কোন কথা না বলে তিনি বিআরডিবি অফিসের সামনের সড়ক ধরে প্রেসক্লাব অভিমুখে চলে যান।
এবিষয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল আজম মনির জানান মামলার আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে অপরাপর স্বাক্ষীসহ তাকেও অব্যাহতভাবে হমকি দিচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে ইতিমধ্যে ভাতিজা সাংবাদিক আল আজিমসহ ভাই গোলাম আজমকে মিথ্যা একটি মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসন সরকারি দলের এসব নেতার বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান হুমকি পাওয়ার ঘটনায় মিজানুর রহমান শুক্রবার সকালে সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বিষয়টি তদন্তপুর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়া হবে।
প্রসংগত উল্লেখ্য ‘যুবদল-যুবলীগ-যুববিভাগ’ মিলে খোলপেটুয়া নদীর বালু লুটের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২ মার্চ প্রেসক্লাবে হামলা চালায় যুবদলের নেতাকর্মীরা। সে ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামীয় ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর ও বাবলুর রহমানকে উক্ত মামলায় আসামী করা হয়।