সোহেল রানা যশোর : পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত সুজনকে আদালতে হাজির করা হলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এ সময় তারা ‘খুনি সুজনের ফাঁসি চাই’, ‘ছামিনা হত্যার বিচার চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, ছামিনা ওরফে সাম্মিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্ত সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন নারীকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানিম হোসেন জানান, ঘটনার পর সুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত সোমবার ভোরে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুজন ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।