বিএম সাব্বির হাসান,মণিরামপুর(যশোর): যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে প্রবাসী প্রেমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইতি খাতুন নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইতি ওই গ্রামের শাহাজান খাঁর মেয়ে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী বিপ্লবের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইতি। প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে জমানো এই টাকা দিয়ে ইতিকে জমি কিনে বাড়ি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকেই ইতির আচরণে পরিবর্তন আসে এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতির মা আকিজ জুট মিলের একজন শ্রমিক ছিলেন। কিন্তু প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কের পর ইতির আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। দামি পোশাক, আধুনিক আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন বিলাসপণ্য কিনে রাতারাতি তারা এলাকায় ধনাঢ্য পরিবার হিসেবে পরিচিতি পায়। ইতির মা জানান, বিপ্লব প্রতি সপ্তাহে ইতিকে ৫ হাজার টাকা পাঠাতেন। কোনো কোনো মাসে ২০/৩০ হাজার টাকাও পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে ইতি ঘরের জন্য দামি খাট, ড্রেসিং টেবিল, ফ্রিজ ও আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনেন। এছাড়া এলাকায় জাকাত প্রদান ও বিভিন্ন মানুষের চিকিৎসার সহায়তার কথা বলেও ইতির বিরুদ্ধে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিপ্লব দাবি করেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার রিসিভ সহ প্রমাণ পত্র দাখিল করেছেন প্রবাসী বিপ্লব।
তবে ইতির মা বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ইতি তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বলে বিপ্লব জানান।
এদিকে, প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ লেনদেনের প্রমাণসহ নিজের টাকা ফেরত পেতে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী বিপ্লব। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছেন থানা পুলিশ।