নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে উপস্থিত স্থানীয় জনসাধারণের প্রবল বাধার মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করতে ব্যর্থ হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শা উপজেলাসহ পুরো জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু যশোর আইনজীবী সমিতির একজন সম্মানিত সদস্য এবং শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা হাজার হাজার ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক’ মামলায় জর্জরিত ছিলেন, তখন তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে আইনি সেবা দিয়ে গেছেন।
শুধু আইনি লড়াই-ই নয়, বিগত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ও তার পরিবারকে বিপন্ন করে রাজপথে সরব ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনেও ছাত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যশোরের মাটিতে প্রতিটি সম্মুখসারির কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষকে জুলুম থেকে রক্ষা করতে তার এই অবদান স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আইনি কোনো সঠিক কাগজপত্র বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই এই আইনজীবীকে হেনস্তা ও আটক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত সাধারণ জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। জনগণের এই ইস্পাতকঠিন প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যিনি নিজে আইনের চর্চা করেন, মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করেন, তিনি যদি নিজ মাটিতে এভাবে হেনস্তার শিকার হন, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?"
এই ঘটনার পর সচেতন মহল মনে করছেন, দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্রের পূর্ণতা আনতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বিনা ওয়ারেন্টে বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো নাগরিককে হেনস্তা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
যশোরের আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করে। তবেই দেশে প্রকৃত সুশাসন বাস্তবায়িত হবে এবং সুরক্ষিত থাকবে বাংলাদেশ।