যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসূল স্থানীয় এক কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ মে বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে মসজিদে আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একই গ্রামের আতি মোড়ালের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মহসিন আলীর নেতৃত্বে ফরিদপুর পুরাতন বাজার এলাকায় তাকে ও তার ভাতিজা হান্নান বিশ্বাসকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার পরদিন ২৭ মে অভিযুক্ত পক্ষ পুনরায় তার বাড়ির সামনে এসে হত্যার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে মহসিন আলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, শালিশের নামে আর্থিক লেনদেন, সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়ম এবং দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, পদ-পদবীর প্রভাব ব্যবহার করে ৯নং ওয়ার্ডে সরকারি অনুদানের চাল, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড পরিবারকেন্দ্রিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় জনগণ এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তার ছেলে পলাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল।
আরেক ভুক্তভোগী জাকির হোসেন দাবি করেন, বঙ্গবাসী সমিতির নামে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অপর এক ব্যক্তি সুলতান অভিযোগ করেন, তাকে বাজারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি তখন প্রতিবাদ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা মহসিন আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে দলীয় সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে— বিষয়টি তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সাংবাদিকরা সঠিকভাবে তদন্ত করুন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, কৃষক দলের সদস্য সচিব মহসিন আলীকে প্রাথমিকভাবে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।