স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফায় আরও বৃহৎ পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সূত্র জানায়, শনিবার সকালে শহরের বাবলাতলা এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে গাবতলা মোড়ে অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বি-ব্লক বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় উচ্ছেদকারী দল। অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
পরে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাইকিং ও নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ দখলদাররা জমি ছাড়েননি। স্বেচ্ছায় সরে যেতে বলা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। ফলে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
তবে অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাদেরকে পর্যাপ্ত পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজনের দাবি, পূর্ববর্তী সময়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানের কারণে এখন শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছে।