যশোর প্রতিনিধি: যশোরে এক সাংবাদিককে মারধর, চাঁদা দাবি ও প্রাণনা’শের হু’মকির অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামি করা হয়েছে বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এম জিহাদ আলী এবং মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানিকে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকাকে ধ’র্ষণের অভিযোগে একাধিক স্থানে মামলা দায়ের হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বাদীর দাবি, ধ’র্ষণের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জেরে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন সাংবাদিক শামীম। এরপর গত ১৭ এপ্রিল রাতে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে তার বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শামীম বাড়ি থেকে বের হলে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনা’শের হু’মকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধ’র্ষণ মামলার তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ওই চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
মণিরামপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।