মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার:জনস্বাস্থ্যের হুমকি ও পশুর সুরক্ষা উপেক্ষা করে বাছুরসহ গাভী জবাইয়ের দায়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এক মাংস ব্যবসায়ীকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার সাফদারপুর বাজারে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাফদারপুর বাজারে আকস্মিক হানা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা। অভিযানে দেখা যায়, মো. ফজলুর রহমান নামে এক মাংস ব্যবসায়ী আইন ও মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে ভ্রুণসহ (বাছুর) একটি পশু জবাই করেছেন। পশুর মাংসের মান নিয়েও গুরুতর অসংগতি পরিলক্ষিত হয়।
তৎক্ষণাৎ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১’-এর ২৪ ধারায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ১৫,০০০ (পনের হাজার) টাকা নগদ জরিমানা করা হয়।অভিযান চলাকালীন জব্দকৃত প্রায় ২৫ কেজি অস্বাস্থ্যকর ও অবৈধ মাংস জননিরাপত্তার স্বার্থে জনসম্মুখে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা সংবাদমাধ্যমকে জানান:"জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা আপসহীন। বাছুরসহ পশু জবাই করা কেবল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, বরং চরম অমানবিকতা। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে আমাদের এই ধরণের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।" সাফদারপুর বাজারে প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসুস্থ ও নিয়মবহির্ভূত পশু জবাই করে আসছিল। আজকের এই অভিযানের ফলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সকাল থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এই ধারার অধীনেই কোটচাঁদপুরের ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। যদি কেউ এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন (যেমন: বাছুরসহ গাভী জবাই বা অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রি), তবে তিনি অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।